দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

প্রতিবছর দেশে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ১৩ হাজার নারী: চিকিৎসার সহজলভ্যতা নেই

জাফর সাদেক শিবলী, ৩ জুলাই
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জরায়ু ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। সাধারণত অজ্ঞতা ও ডাক্তারের কাছে যেতে অনীহার কারণে এ রোগ দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে ২২ থেকে ২৯ শতাংশই ভুগছে জরায়ু ক্যান্সারে। আর প্রতিবছর নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার নারী। দেশে জরায়ুমুখ পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, পরীক্ষার ব্যাপারে উদাসীনতা, বাল্য বিয়ে, অল্প বয়সে যৌন মিলন, অধিক সন্তান জন্মদান ও নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণেই এ রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এর পরও দেশে রোগটির চিকিৎসার সহজ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রচারের অভাবে এর সুবিধা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার নারী।
তারা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের ওপর এ জরিপ চালায়।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেনি এমন অনেক রোগী এ জরিপের বাইরে থেকে গেছে বলে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান।
২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে এ জরিপ কাজ পরিচালিত হয়।
জরিপের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এক লাখ ৭১ হাজার ৩৮৭ জন নারীর ওপর এ জরিপ চালানো হয়। তাদের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ নারীর জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় ছিল, যাদের অধিকাংশের জরায়ু কেটে না ফেলে সহজ উপায়েই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিদের অস্ত্রোপচারের মতো জটিল উপায়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই দেরিতে আসার কারণে সহজভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২৭মে, ২০১০-এ রাজশাহী মেডিকেলে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরাও একই ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে আরো উল্লেখ করা হয় যে, প্রতিবছর বাংলাদেশে জরায়ু ক্যান্সারে প্রায় ৬থেকে ৭হাজার নারী মৃত্যু বরণ করে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনোকলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেরিনা খানম বলেন, বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা, বহুগামিতা, পারিবারিকভাবে কোন ধরণের যৌন রোগের ইতিহাস থাকা, তুলনামূলক দরিদ্র্য আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের মহিলাদের এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।