জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২৩জুলাই, সোমবার): সারাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৩ শতাংশ শিশু দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টির শিকার। এর বড় কারণ হলো জন্মের পরপর ও জীবনের প্রথম ছয় মাস এরা যথাযথভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি।
পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুদের মায়ের দুধ দেওয়া শুরু করলে বছরে ৩৭ হাজার নবজাতকের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছয় মাসের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি যে সম্পূরক খাদ্য দরকার, তাও এসব শিশু ঠিকমতো পায়নি।
গত বছর বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে সরকারিভাবে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করার নির্দেশনা ছাড়া আর কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বলছেন, বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন আছে।
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের সভাপতি এস কে রায় বলেন, জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পান করলে শিশুর যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।
তিনি বলেন, মায়ের দুধের পরিবর্তে কৌটার বা বাজারের দুধ খেলে শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, শিশু অপুষ্টির শিকার হয়। কারণ কোনো কৌটার দুধই জীবাণুমুক্ত নয়। দ্বিতীয়ত, শিশুর খাবার তৈরির সময় তা দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে বলছে (বিডিএইচএস-২০০৭), মাত্র ৪৩ শতাংশ নবজাতককে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে দুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে ৯২ শতাংশ শিশু শালদুধ পায়। একই জরিপে বলা হচ্ছে, ছয় মাসের কম বয়সী ৪৩ শতাংশ শিশু শুধু বুকের দুধ পান করে। একই বয়সের এক শতাংশ শিশুকে একেবারেই বুকের দুধ দেওয়া হয় না। অন্যদিকে ৫৬ শতাংশ শিশুকে অন্যান্য খাবারের পাশাপশি বুকের দুধ দেওয়া হয়। চার থেকে পাঁচ মাসে গিয়ে মাত্র ২৩ শতাংশ শিশু শুধু বুকের দুধ পান করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা জন্মের পরপর শিশুকে দুধ খাওয়ালে জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, মায়ের রক্তক্ষরণ কম হয় এবং দ্রুত বন্ধ হয়। এতে মাতৃমৃত্যুর হারও কমে।
প্রধানমন্ত্রী কৃত্রিম শিশুখাদ্য (বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়ন ও মায়ের দুধের পক্ষে প্রচার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফাতেমা পারভীন চৌধুরী বলেন, মায়ের দুধের পক্ষে প্রচার জোরদার করার জন্য ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বর্তমান কৃত্রিম শিশুখাদ্য বিপণন আইনটিতে আইন লঙ্ঘনকারীর জন্য দণ্ড ও জরিমানার পরিমাণ কম।
|