জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (০৩ অক্টোবর, রবিবার): জাতিসংঘের হিসেব মতে ৬০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীরাই প্রবীণ। উন্নত বিশ্বে এ বয়স ধরা হয় ৬৫ বছর থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবীণদের বয়স নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ঠিক কোন বয়সে একজন মানুষকে প্রবীণ ধরা হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।
যেমন-সরকারী হিসেবে ৫৭ বছর। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের নীতিমালায় ৫৫ বছর। হাইকোর্টে বিচারপতিদের অবসরসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ বছর। আবার কিছু কিছু পাবলিক ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য ৬৫ বছর।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এএসএম আতিকুর রহমান বলেন, বার্ধক্যের বয়স নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দরিদ্র ও গ্রামীণ বাংলাদেশীদের ৬০ বছরের অনেক আগেই বার্ধক্যে পরিণত হতে দেখা যায়। সে হিসেবে বার্ধক্য বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে তেমন প্রস্তুত নয়। প্রবীণদের ক্রমবর্ধমান হার ভবিষ্যতে জনসংখ্যার নির্ভরশীলতার অনুপাতের পরিবর্তন ঘটবে। ফলে প্রবীণদের দেখভালের উপযোগী প্রজন্ম কমে আসবে।
২১ শতকে বিশ্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে বার্ধক্য সমস্যা। ১৯২১ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ২০ বছর। ২০০১ সালে এ হার এসে দাঁড়িয়েছে ৬৩ বছরে। অর্থাৎ ৮০ বছরে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৩ বছর। বিভিন্ন সংস্থার হিসেব মতে, দেশে প্রবীণের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এদের মধ্যে ৬৩ ভাগের বয়স ৬০ থেকে ৬৯ বছরের মধ্যে। ৩০ ভাগের বয়স ৭০ থেকে ৭৯ বছরের মধ্যে এবং ৬ ভাগের বয়স ৮০ বছরের বেশি।
দেশে ২০২৫ সালে প্রবীণদের হার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে প্রতি ১০ জনে একজন অর্থাৎ ১ কোটি ৯০ লাখ এবং ২০৫০ সালে এ হার হবে প্রতি ৫ জনে ১ জন। অর্থাৎ ৪ কোটি ৪০ লাখ।
সমাজ ও দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এনজিওর সবর উপস্থিতি থাকলেও প্রবীণদের নিয়ে তাদের কোন ভূমিকা নেই। নারী অধিকার, কল্যাণ ও নারী প্রগতি নিয়ে কয়েক’শ নারী সংগঠন কাজ করলেও প্রবীণ নারীদের দেখাশোনায় এসব নারী সংগঠনের কোন অবদান নেই।
বিশেজ্ঞদের মতে, নারী মাত্রই সমাজের বঞ্চনার শিকার। এই নারী যখন প্রবীণ হয় তখন তার সঙ্কট দ্বিগুণ হয়। আর নারী যদি বিধবা অথবা প্রতিবন্ধী হয়, শেষ বয়সে তার কষ্টের কোন সীমাপরিসীমা থাকে না।
তবে প্রবীণ ও জরা বিজ্ঞান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা দাবি করেছেন প্রবীণ বিষয়ক নীতিমালা প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষার জন্য জরুরী।
জানা গেছে, ২০০৬ সালের সরকার প্রবীণ বিষয়ে একটি নীতিমালা করলেও এখনও মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন দেয়া হয়নি। তারা নীতিমালার অনুমোদন দিয়ে গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে সমাজকলাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি প্রবীণ অধিদফতর করার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধ্যাপক এএসএম আতিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রায় সব মুক্তিযোদ্ধা এখন প্রবীণ। সরকার ও জনগণের স্বার্থে অধিদফতর করা জরুরী। যাতে করা প্রবীণরা বিশেষ করে শেষ বয়সে তুলণামূলকভাবে ভালো স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে।
|