জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২৩ জানুয়ারী, রবিবার): পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভাবেই দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দেশে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার বাড়লেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে না। গত কয়েক বছরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। এরপরও জনসংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। গত নয় বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ১ লাখ।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে ছিল ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০০৭ সালে এ হার ছিল ৫৯ শতাংশ। কিন্তু দেশের বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০০৯ সালে ছিল ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৭ সালে এ হার ছিল ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সম্প্রতি জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপি)র প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান জনসংখ্যা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৪ লাখ। এভাবে বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২২ কোটি ২৫ লাখে। ২০০১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ। গত নয় বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ১ লাখ। বছরে বৃদ্ধির হার প্রায় ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫ জন। তবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক গণেশ চন্দ্র সরকার মনে করেন জাতিসংঘের এ জরিপ সঠিক নিয়মে হয়নি। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্যের কোঠায় আনতে হলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৭২ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সরকার ‘রূপকল্প ২০২১’-র আওতায় দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ৮০ শতাংশের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস করা যাবে বলে তিনি মনে করেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর মধ্যে নারীরা এগিয়ে। ব্যবহারকারীর মধ্যে পুরুষ মাত্র ৫ ভাগ। পদ্ধতির ক্ষেত্রে পুরুষ ব্যবহারকারীদের মধ্যে কনডম ব্যবহারকারীর হার ৪ দশমিক ৫।
নিপোর্টের পরিচালক এম এম আনিসুল আউয়াল আমারহেলথকে জানান, এসব এলাকায় একটি প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করায় ফলাফল ইতিবাচক হয়েছে।
এদিকে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও উদ্বিগ্ন। সরকার স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের সফল বলে দাবি করলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন তিনি।
|