দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

স্বাস্থ্য-শিক্ষাখাতে ব্যয়ে এনজিওগুলোর অনিহা: দানের অর্থে তৈরী হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

যথাযথ আইন ও লোকবলের অভাবে এনজিও খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের সব এনজিওকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসার উদ্যোগও ঝিমিয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার বিদেশি অর্থ এনজিও ব্যুরোর মাধ্যমে দেশে এসেছে। এর ৯০ শতাংশ কোথায়, কিভাবে ব্যয় হচ্ছে তা জানে না সরকার। আলাদা সংস্থার কাছ থেকে নিবন্ধন নিয়ে এনজিওগুলো জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়েই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করছে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ তুলনামূলকভাবে অলাভজনক খাতে এনজিওগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থ খরচ করছেনা। তবে বড় এনজিওগুলো ব্যাংক, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তাদের টাকা ব্যায় করছে।

জানা গেছে, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনজিও ব্যুরো, জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জ, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যুব, নারী ও শিশু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, পরিবেশ ও বনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন নিয়েছে দেড় লাখের বেশি এনজিও। তবে এ সংস্থাগুলো যে কাজ করছে, তার শতকরা ৯০ ভাগেরই কোন তদারকি নেই।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যুব উন্নয়ন সহ অলাভজনক প্রকল্পে দানের টাকা ব্যয় না করার পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বদ্ধ পরিকর। তাই সব এনজিওকে এক করার জন্য আইন প্রণয়নের কাজ এই মুহূর্তে প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এ ছাড়া যে এলাকায় এনজিও কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি এবং এসপিকে কাজের বিষয় জানাতে হবে। গত বছরের মার্চ মাসে এ ধরনের আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত আইনটি চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র মতে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আইনটি প্রণয়ন করার সময়ই নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ে। প্রভাবশালী এনজিওগুলো সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লবিং করে এ ধরনের আইন প্রণয়নে বাধা দিচ্ছে। আইনটি আদৌ পাস করা সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন  কর্মকর্তারাও বেশ শংকিত।
এনজিও ব্যুরোর প্রশাসনিক সূত্র মতে, আড়াইহাজার এনজিও তদারকিতে লোকবল ৫৯ জন লোকবল কাজ করে। যার কারনে চতুর্মুখী সমস্যায় এনজিও ব্যুরো।
এনজিও ব্যুরোর সার্বিক কার্যক্রম সম্বন্ধে ব্যুরোর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘লোকবলের অভাবে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর কাজ তদারক করতে পারি না। কাজের ১০ শতাংশ তথ্যও পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ কাজই সরকারি তদারকির বাইরে থেকে যাচ্ছে।’ সূত্র: কালের কন্ঠ