দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা :

১৯৭২ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ( WHO) বাংলাদেশের জনগনের স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ শুরু করে। দেশের সকল স্তরের জনগনের জন্য মান সম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে সব দিক থেকে সহায়তা করে আসছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা উপযুক্ত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে ২০০৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশেষ পরিকল্পিত কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। সে পরিকল্পনার আওতায় সংস্থাটি বর্তমানে মোট ৬ টি কর্মসূচীকে মূল কর্মপন্থা ধরে কাজ চালিয়ে আসছে। সেগুলো হলো- সংক্রামক রোগ, পরিবার ও জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিও ফার্মাসিউটিক্যালস, অসংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য, সার্বিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষন ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং নীতিমালা ও তথ্য প্রমাণ। সংক্রামক রোগ রোগের আওতায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা যে সকল রোগ নিয়ে কাজ করে তা হলো ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টিউবারকিউলোসিস, লিপ্রোসি, সার্স ও ফাইলেরিয়া। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশে Ae. aegypti মশা ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪ এ চার প্রকারের ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রায় ২৬ মিলিয়ন জনগন ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপে পড়ার সম্ভাবনায় থাকে। টিবি রোগে আক্রন্ত হয় প্রায় তিন লক্ষ। রাজশাহী বিভাগের ৬টি জেলা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলাতে হাজারে এক জন লিপ্রোসি রোগী পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের ২৩টি জেলার প্রায় ২০মিলিয়ন জনগন ইতোমধ্যে ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ও ৩০ মিলিয়ন সংক্রামিত হওয়ার আশংঙ্কায় রয়েছে। পরিবার ও জনস্বাস্থ্য শাখাতে রয়েছে শিশু স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, এইচআইভি/এইডস। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে-গত আশির দশকে দেশে হাজারে শিশু মৃত্যুহার ছিল ২৭৩। অথচ গত দু’দশকে সেই হার নেমে এসেছে ৮০ থেকে ৮৮ তে। বিশ্বজুড়ে ৫ লক্ষেরও বেশি মা গর্ভসম্পর্কিত ও শিশুজন্মের সময় মৃত্যু বরণ করেন। ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুহার কমিয়ে আনার লক্ষে কাজ করছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি এইডসের প্রবল সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিশেষ নজর রাখছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিও ফার্মাসিউটিক্যালস পরিকল্পনায় রয়েছে জরুরী ওষধ, পোলিও হ্রাস, ওষধের মান নিয়ন্ত্রন, টিকাদান কর্মসূচী, নিরাপদ রক্ত ও ক্লিনিক্যাল প্রযুক্তি সরবরাহ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে দেশে ২০০০সালে সর্বশেষ পোলিও রোগ ধরা পড়ে। নিরাপদ রক্ত সরবরাহের মাধ্যমে সংস্থাটি HIV, HBV, HCV, syphilis সংক্রামন রোধে বর্তমানে নজর রাখছে। অসংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচীর আওতায় রয়েছে অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপণা, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ, হার্ট ডিজিজ, জাতীয় কার্ডিওভাসকুলার সেন্টার, ট্যোবাকো, বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য উন্নয়ন, অক্ষমতা ও আঘাত প্রতিরোধ, অন্ধদের অক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য। সংস্থাটির স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের মতে- ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও ডায়াবেটিস দেশের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ সাধারণত ধুমপানের মাধ্যমেই বেশি ছড়িয়ে থাকে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশের National Institute of Cancer Research and Hospital (NIC), Bangladesh Institute of Research and Rehabilitation in Diabetes, Endocrine and Metabolic Disorders (BIRDEM), and National Heart Foundation Hospital and Research Institute (NHF) ও Zia Heart Foundation Hospital and Research Center (ZHF) অসংক্রামক রোগ নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, আর্সেনিক, নগরায়ন, দুর্বল জনগোষ্ঠী, খাদ্য নিরাপত্তা, জরুরী প্রসূতি “সার্বিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষন ও স্বাস্থ্য” কর্মসূচীর আওতাধীন। অপেক্ষাকৃত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপরোক্ত সমস্যার সম্মুখীন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাস ও শহরাঞ্চলে যানবাহনের মাধ্যমে পরিবেশ অতিমাত্রায় দূষণ হচ্ছে। আর্সেনিক দূষণপ্রবণ এলাকায় পানি সংগ্রহের জন্য অন্য কোন পথ না থাকায় আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষ দূষিত পানি পান করছে। এজন্য ৩০-৩৫ মিলিয়ন মানুষ আর্সেনিক আক্রান্ত। নীতিমালা ও তথ্য প্রমাণ কর্মসূচীর আওতায় রয়েছে-গবেষণা পদ্ধতি, নীতি ও ব্যবস্থাপণা এবং জনস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেরও গবেষণা নীতি রয়েছে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য গবেষণা করে তদানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ খাতে ডাক্তার, নার্স, ধাত্রী, ফার্মাসিস্ট, ফিজিশিয়ানও স্বাস্থ্যবিষয়ক পেশাদারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে উপরোক্ত পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা দেশের বিভিন্ন উপজেলা জেলা ও জেলা শহরগুলোতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময় ভাগ করে কাজ করে যাচ্ছে। পোলিও, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুসহ বেশ ক’টি খাতে ইতোমধ্যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বেশ সফলতা অর্জন করেছে। সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে অন্যান্য খাতগুলোতেও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বেশ সফলতা অর্জন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। source: www.whoban.org access on 03.01.2010

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার চলমান পরিকল্পনা:

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৮-২০১৩সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁর মধ্যে রয়েছে-
১. এইচআইভি এইডসের বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাওয়া ও ম্যালেরিয়া হ্রাস।
২. মানসিক নিয়ন্ত্রণহীনতা, উগ্রতা ও শ্বাস প্রশাস জনিত রোগ কমিয়ে আনা।
৩. গর্ভবতী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি
৪. জরুরী অবস্থা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা
৫. টোবাকো, এলকোহল, ড্রাগ, অনিয়ন্ত্রিত খাবার দাবার ও অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক বন্ধ করা
৬. মেডিকেল পন্য ও প্রযুক্তির গুনগত মান নিয়ন্ত্রণ
৭. পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন
৮. নিরাপদ ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করণে আবহাওয়ার হুমকি প্রতিরোধ