দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

এসিড সন্ত্রাস : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

জাফর সাদেক শিবলী: পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি সন্ত্রাস রয়েছে। তবে দিন দিন বিশ্বব্যাপী এ সন্ত্রাসের ভিন্নতা ও মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। আর বর্তমানে এমনই এক সন্ত্রাসের নতুন রূপ হচ্ছে এসিড সন্ত্রাস। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এই সন্ত্রাসের মাত্রা তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর যে কোন দেশের চেয়েও কয়েকগুন বেশি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ চিত্র আরো ভয়াবহ। এসিড সন্ত্রাস হচ্ছে একটি উগ্র ও ধবংসাত্বক সন্ত্রাসের রূপ। আজকাল শিশু, বৃদ্ধ এমনকি পুরুষেরাও এই সন্ত্রাসের আওতা বহির্ভূত নয়।

এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশনের (এসএসএফ) এসিডদগ্ধদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম:

১৯৯৯ সাল থেকে সংস্থাটি এসিড সন্ত্রাস বন্ধে ও এসিডের শিকারদের পূণর্বাসনে কাজ করে আসছে। এর মূল লক্ষ হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে এসিড সন্ত্রাসের পরিমান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা। বর্তমানে গড়ে প্রতি দু’দিনে একজন লোক এসিড সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। গত ১২ মে ০৯ এএসএফ-এর দশম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে এসিড সারভাইভরসদের নিয়ে আয়েজিত প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ২০১৫ সালের মধ্যে এসিড সন্ত্রাস নির্মূলের অঙ্গীকার করা হয়। এ সম্মেলনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও উগান্ডার প্রায় ৯০০ এসিডদগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রায় ৩০০০ এসিডদগ্ধদের জন্য এএসএফ বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আক্রান্তদের শাররিক সুস্থতা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করে যাচ্ছে সংস্থাটি। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদান, ও জনগনের কাছ থেকে এসিডের শিকারদের জন্য নৈতিক ও সামাজিক সমর্থনের আদায়ের জন্য সংস্থাটি চেষ্টা করে যাচ্ছে। স্থানীয় এনজিও, ডাক্তার, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের এসিড ইস্যুতে যুক্ত করতে এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম ও সেলিব্রিটিদের এসিড প্রতিরোধ কার্যক্রমে সংস্থাটি যুক্ত করছে। এসিড শিকারদের জন্য কাজ করার স্বীকৃতি সরূপ সংস্থাটি মাঝে মধ্যে দেশী ও বিদেশী সনদ লাভ করে। তার ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে সংস্থার নিবার্হী পরিচালক এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল পদক লাভ করে। মূলত এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন(এএসএফ) বিশ্বব্যাপী একটি কল্যাণমূলক নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠান যা প্রধানত এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষতঃ এসিড ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে সৃষ্ট সন্ত্রাস প্রতিরোধ, উগ্রতা ও হিংস্রতামুক্ত বাংলাদেশ গঠন সংস্থাটির আগামী দিনের অঙ্গীকার।

এসিড সন্ত্রাস নির্মূলে গণমাধ্যমের ভূমিকা:

এসিড সন্ত্রাস নির্মূলে গণমাধ্যমের ভূমিকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। এসিড সন্ত্রাসের ভয়াবহতা, একটি পরিবারের বিপর্যয়, সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি ও এসিড নিক্ষেপের আইনগত শাস্তি ভয়াবহতা গনমাধ্যমে তুলে ধরলে এ সন্ত্রাস অনেকাংশে হ্রাস হবে। যেহেতু অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে তাই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে এ সম্বন্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলা খুব জরুরী। ইদানিং বাংলাদেশের বেশকিছু গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে ভাল জনসচেতনতা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর ‌‌‌‌‌‌‌আর একটি মুখও যেন ঝলসে না যায়- শ্লোগান।

এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ:

এসিড সারভাইভরস ফাইন্ডেশনের ২০০০-০৮পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে এসিড ছোড়ার সংখ্যা ছিল ১৭৪। ক্রমান্বয়ে সে সংখ্যা বেড়ে ২০০২সালে সর্বোচ্চ ৩৬৭তে দাড়াঁয়।


পত্র-পত্রিকা, দেশী বিদেশী এনজিও এবং সুশীল সমাজের কল্যানে এসিড সন্ত্রাস দিনে দিনে কমছে। এসিড সন্ত্রাস কমিয়ে আনতে বাংলাদেশে কয়েকটি বেসরকারী ও

এসিড সারভাইভরস ফাইন্ডেশনের ২০০০-০৮পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে এসিড ছোড়ার সংখ্যা ছিল ১৭৪। ক্রমান্বয়ে সে সংখ্যা বেড়ে ২০০২সালে সর্বোচ্চ ৩৬৭তে দাড়াঁয়। পত্র-পত্রিকা, দেশী বিদেশী এনজিও এবং সুশীল সমাজের কল্যানে এসিড সন্ত্রাস দিনে দিনে কমছে।

সরকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে তাদের কর্মসূচী চালিয়ে আসছে। তার মধ্যে এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন, প্রথম আলো এসিডদগ্ধদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছে ও এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করে যাচ্ছে। এছাড়া আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি আইনীভাবে এসিডদগ্ধদের জন্য লড়ছে ও নৈতিক সমর্থনও দিয়ে যাচ্ছে। পরের পাতা