দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

এসিড সন্ত্রাস : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট্থা

জাফর সাদেক শিবলী: পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি সন্ত্রাস রয়েছে। তবে দিন দিন বিশ্বব্যাপী এ সন্ত্রাসের ভিন্নতা ও মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। আর বর্তমানে এমনই এক সন্ত্রাসের নতুন রূপ হচ্ছে এসিড সন্ত্রাস। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এই সন্ত্রাসের মাত্রা তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর যে কোন দেশের চেয়েও কয়েকগুন বেশি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ চিত্র আরো ভয়াবহ। এসিড সন্ত্রাস হচ্ছে একটি উগ্র ও ধবংসাত্বক সন্ত্রাসের রূপ। আজকাল শিশু, বৃদ্ধ এমনকি পুরুষেরাও এই সন্ত্রাসের আওতা বহির্ভূত নয়।

এসিডের ধরন ও প্রতিক্রিয়া:

নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, টেনিক এসিড ও ফরমিক

ক্রমিক সন এসিডদগ্ধের ঘটনা আক্রান্তের সংখ্যা
১. ২০০০ ১৭৪ ৩৪৯
. ২০০১ ২৫২ ৪৯০
৩. ২০০২ ৩৬৭ ৪১১
৪. ২০০৩ ৩৩৫ ৩২৫
৫. ২০০৪ ২৬৬ ২৭২
৬. ২০০৫ ২১৭ ২২১
৭. ২০০৬ ১৮০ ১৯২
৮. ২০০৭ ১৫৫ ১৭৯
৯. ২০০৮ ১৩৭ ১৭৯


 

 


পরিসংখ্যানে দেখা যায়
বাংলাদেশের শতকরা ৩৯
ভাগ বালক ও পুরুষ এবং
৬১ ভাগ বালিকা ও মহিলা
২০০৮ সালে এসিড
সন্ত্রাসের শিকার হয়। -সূত্র: এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা:

দেশে প্রথম এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে ১৯৬৭ সালে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশের অধিকাংশ এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে থাকে প্রেমঘটিত কারনে। আবার অনেক সময় যৌতুকের কারনেও এসিড ছোড়া হয়। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে লক্ষণীয় একটি বিষয় হলো এসিড নিক্ষেপের ঘটনা সাধারণত নিম্নবিত্ত বা নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে এবং নগরাঞ্চলে গ্রামাঞ্চলের চেয়ে এর প্রভাব খুব কম।

২০০৯সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসিড নিক্ষেপের ঘটনা
-সূত্র এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন

ক্রমিক মাসের নাম এসিডদগ্ধের ঘটনা আক্রান্তের সংখ্যা  
১. জানুয়ারী ১২ ১৩
২. ফেব্রুয়ারী ০৫ ০৬
৩. মার্চ ০২
৪. এপ্রিল ০৯ ০৯
৫. মে ১০ ১৩
৬. জুন ০৮ ১২
৭. জুলাই ১৮ ২৭
৮. আগস্ট ১৪ ১৭
৯. সেপ্টেম্বর ১১ ১৩

যৌন আবেদনে সাড়া না দেয়া, পরিবার বা মেয়ে নিজের পক্ষ থেকে বিবাহে সম্মতি না দেয়া, জমিজমাগত বিরোধ, প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানসহ প্রতিহিংসা বশত এসিড ছোড়া হয়। সাধারণত ১৮ বছর বয়সের নারীরা এ সন্ত্রাসের শিকার হয় সবচেয়ে বেশি। এসিড সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসের শিকার পরিবারগুলোতে শিক্ষা ও সচেতনতার খুব বেশি অভাব লক্ষ করা যায়। যুবক জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে দারিদ্র্য সম্পর্কিত অশান্তি, নৈতিক অবক্ষয়, আবেগতাড়িত অপরিপক্ক বুদ্ধি বিবেচনা, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারনে এ সমস্যা এখনো সমাজে বিদ্যমান। এসিডের সারভাইভরস ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, বাংলাদেশে এসিডের শিকার জনগোষ্ঠির মধ্যে শতকরা ৪৭ ভাগ নারী, ২৬ভাগ পুরুষ ও ২৭ ভাগ শিশু। ইদানিং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারনে গৃহপালিত পশুও এসিডের শিকার হচ্ছে । পরের পাতা