জাফর সাদেক শিবলী
‘মাদক নয় স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবুন’স্লোগানকে ধারণ করে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা(ইউএনওডিসি) সারাবিশ্বজুড়ে সদস্য দেশগুলোতে দিবসটি পালনে নেতৃত্ব দেয়। জনসাধারণের মধ্যে বিশেষত যুবশ্রেণীর মধ্যে সার্বিক সচেতনতা তৈরী করা সংস্থাটির লক্ষ।
দিবসটি পালনে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণীসহ স্মারক বই প্রকাশ করেছে। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ, সিরডাপ ও হাইহোর্টের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন এনজিও। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মাদকবিরোধী আলোচনা সভা। এতে বক্তারা মাদক সমস্যা নির্মুলে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান। এবং সরকারের মাদকনীতিমালার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান এক বাণীতে বলেন, মাদকদ্রব্যের অবাধ বিস্তার ও অপব্যবহার রোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি মাদকমুক্ত সুস্থ ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার মানবসৃষ্ট একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক, সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
ইউএনওডিসি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় ২০০ মিলিয়ন লোক বছরে অন্তত একবার হলেও মাদক গ্রহণ করে থাকে। এদের মধ্যে ২৫ মিলিয়ন লোক মাদকের উপর সরাসরি নির্ভরশীল। এবং প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ লোক মাদকজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করে।
সংস্থাটির মতে- যুবশ্রণী সবচেয়ে বেশি মাদকপ্রিয়। এদের মধ্যে মাদকগ্রহণের প্রবণতা সাধারণের চেয়ে দ্বিগুন। তাই এ বিশেষ শ্রেণীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে সহযোগীতা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন দক্ষতা ও তথ্যপ্রবাহের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে যুবশ্রেনীকে মাদকের হাত থেকে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচী ফলপ্রসূ হবে।
ইউএনওডিসি দিবসটি উপলক্ষে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পুয়ের্তোরিকা, কাজাখাস্তান, লেবানন, উজবেকিস্তান ও ভিটেনামে বিশেষ কমৃসূচী পালন করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত, নেপাল ও ভূটানে ইউএনওডিসি ও স্হানীয় অংশীদাররা বিভিন্ন কর্মসুচী নিয়েছে। মিডিয়া, এনজিও সংস্থা, শিক্ষক এবং পিতামাতারাও মাদকবিরোধী দিবসের কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের ৪২ তম সাধারণ অধিবেশনে দিবসটি উদযাপন করার ব্যাপরে প্রথম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গত বছর দিবসটির প্রতিপ্রাদ্য ছিল- ‘মাদক কী তোমার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে? তোমার জীবন, বাসস্থান কোথাও মাদকের স্থান নেই।
|