জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (১২ ফেব্রুয়ারী, শনিবার): স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচী (এইচএনপিএসপি) নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। গত কয়েক বছরে দুর্নীতির জালে জড়িয়ে গতিহীন হয়ে পড়েছে প্রকল্পটি। এ প্রকল্পের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে দাতাগোষ্ঠীও। এইচএনপিএসপি'র উদ্দেশ্য সফল হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সরকার ও দাতা সংস্থার যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত বিশাল অঙ্কের এ কর্মসূচী গত ৭ বছরে সফলতার মুখ দেখেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এইচএনপিএসপি'র মূল উদ্দেশ্য হলো অপুষ্টির হার রোধ, উচ্চ মৃত্যুহার, মাতৃ-মৃত্যুহার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার রোধ, প্রজনন হার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। পাশাপশি অন্যান্য রোগের প্রকোপ হ্রাসকরণ, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার ২ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ২ ভাগ। প্রজনন হার ২ দশমিক ২-এর স্থলে অর্জিত হয়েছে ৩ ভাগ। এক বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারের লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হাজারে ৬৫-এর স্থলে অর্জিত হয়েছে মাত্র ৩৫ ভাগ।
এইচএনপিএসপি'র অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ার পেছনে কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তাঁরা বলছেন, এ খাতের মূল সমস্যা হচ্ছে দাতা সংস্থাগুলোর খবরদারি এবং অর্থ ছাড়ে অসহযোগিতা। সময় মতো অর্থ দেয় না। অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রজেক্ট ও অপারেশন প্লান শুরু করা যাচ্ছে না।
ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি রশিদ-ই-মাহবুব জানান, এইচএনপিএসপি'র মূল উদ্দেশ্য এখনও সফল হয়নি। দাতাগোষ্ঠী ও মন্ত্রণালয় নিজেদের মতো করে এটি পরিচালনা করে আসছে। এই কর্মসূচীতে জনসম্পৃক্ততা ছিল না। আর দেশে স্বাস্থ্যনীতি ও জনসংখ্যা নীতি না থাকার কারণেই এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নির্দিষ্ট কোন দিকনির্দেশনা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যার মতো বিষয়কে একত্রিত করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
|