দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এইচআইভি আক্রান্তদের অস্ত্রোপচারে অনীহা প্রকাশের অভিযোগ

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (১৯ মার্চ, শনিবার): এইচআইভি পজিটিভ রোগীদের চিকিৎসা দিতে চান না সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শৈল্য চিকিৎসকরা এইচআইভি আক্রান্তদের যেকোনো ধরনের অস্ত্রোপচারে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করতে না পারায় এইচআইভি আক্রান্ত রোগীরা আরো দ্রুত মৃত্যুর মুখে পতিত হয়।
এইচআইভি পজিটিভ রোগী এবং তাঁদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত না হলেও এর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের অনীহা রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা বলেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. শিফায়েতুল্লাহ বলেন, 'এত দিন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এইচআইভি বা এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসার সুবিধা খুবই সীমিতভাবে চলে আসছে। এটা অনেকটা বেসরকারি খাতেই আটকে ছিল। ফলে সরকারি চিকিৎসকদের মধ্যে এটা নিয়ে তেমন সাড়া নেই। এমনকি এ দেশে এখন পর্যন্ত এইচআইভি বা এইডসের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা হয়নি, যা অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার। 'তবে এখন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই দাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।'
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, 'চিকিৎসকরা সব রোগীরই চিকিৎসা দেবেন। প্রয়োজনে তাঁরা সতর্কতা অবলম্বন করবেন। কিন্তু এইচআইভি আক্রান্ত বলে তাঁদেরকে ফিরিয়ে দেবেন_এটা হতে পারে না।'
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ঘোষিত (১ ডিসেম্বর ২০১০) হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দুই হাজার ৮৮ জন। এইডস রোগী ৮৫০ জন। এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪১ জন।
২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় এইডস/এসটিডি কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩২ হাজার ২০৯ জনের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই আক্রান্ত ও মৃতদের শনাক্ত করা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে তাঁদের শরীরে সহজেই বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। যার প্রভাবে অনেক সময়ই নানা ধরনের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বেশির ভাগেরই দাঁতের সমস্যা দেখা যায়। এ ছাড়া এইচআইভি পজিটিভ গর্ভবতীদের অনেকেরই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব প্রয়োজন হয়।