দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

পরিবার পরিকল্পনায় এনজিওর ভূমিকা

-জাফর সাদেক শিবলী

জনসংখ্যা সমস্যা বাংলাদেশে আজ সবচেয়ে বড় সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে প্রয়োজন জন্ম নিয়ন্ত্রন ও  পরিবার পরিকল্পনার চতুর্মুখী কার্যক্রম হাতে নেয়া। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্য  উন্নয়ন ও সার্বিক সমাজ উন্নয়নে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী খুব জরুরী। বর্তমানে প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩০লক্ষ লোক বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু তার বিপরীতে পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসছে। এ অবস্থায় জনসংখ্যা বিশারদদের হিসাব হচ্ছে বর্তমান জনসংখ্যা ১৫কোটি ১০লক্ষ। ২০২০সালে এ সংখ্যা ১৮কোটি ও ২০৫০সালে এ সংখ্যা ২৮ কোটিতে দাঁড়াবে। সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন নীতিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতের লক্ষ হল-স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সকল শ্রেণী বিশেষত দরিদ্র জনগনের উন্নতি। কিন্তু সব খাতের চেয়েও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী অত্যন্ত শ্লথ গতিতে এগুচ্ছে। ১৯৫৩-৫৯সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১০টি পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। যথাযথ প্রয়োগের কারনে প্রায় সবকটি পরিকল্পনাই ভেস্তে গেছে। সবশেষ পরিকল্পনা ২০০৩-২০১০ এর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচী হল ২০১১সালের মধ্যে উর্বরতার হার ৩.৩ থেকে ২ তে নামিয়ে নামিয়ে আনা। আরো রয়েছে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে আনা ও পুষ্টির মানোন্নয়ন।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে সরকারের চেয়েও বাংলাদেশের এনজিওগুলো অনেক বেশি অবদান রেখেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, স্যোসাল মার্কেটিং কোম্পানী, প্রশিকা, মেরিস্টোপ ক্লিনিক সহ দেশী বিদেশী কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা এই খাতটিতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। মেরিস্টোপ ক্লিনিক পরিবার পরিকল্পনার জন্য সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে তাঁদের কর্মসূচী শুরু করে। এরপর দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রনে নতুন নতুন পন্যের উদ্ভাবনের মাধ্যমে এটি দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া তুলতে সক্ষম হয়। মেরিস্টোপের প্রথম লক্ষ হলো পরিবার পরিকল্পনা। পাশাপাশি শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও এইডস প্রতিরোধে দেশের ১৭টি জেলার ৩০টি ক্লিনিকে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। পরিবার পরিকল্পনায় অন্য একটি বেসরকারী সংস্থা হলো স্যোসাল মার্কেটিং কোম্পাণী(এসএমসি)। এর মানসম্মত জন্ম নিয়ন্ত্রন পিল যেমন, ফেমিকন, মিনিকন, নরডেট-২৮ ইত্যাদি, জন্ম নিয়ন্ত্রন ইনজেকশন সোমাজেক্ট, বিভিন্ন ধরনের কনডম যেমন- প্যানথার, সেনসাশন, ডায়েরিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন রকমের ওরস্যালাইন ও বিভিন্ন পন্যের গুনগত মানের মাধ্যমে দেশ বিদেশে বেশ সুনাম ও সফলতা অর্জন করেছে। এছাড়া দেশব্যপী ৩৬০০টি আওটলেটের মাধ্যমে এসএমটি সুবিধাবঞ্চিত জনগনকে তুলনামূলকভাবে ভাল স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। তাদের সেবার অন্যতম ফোকাস হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা। অন্যান্যের মধ্যে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারের সাথে একযোগে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করে।
ইতোমধ্যে বেসরকারী সংস্থাগুলোর সহযোগীতায় দেশব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সরকারের তৎপরতার পাশাপাশি এনজিওগুলোর কাজের পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীকে অনেকাংশে সফল করা সম্ভব।