জাফর সাদেক শিবলী: ৩০ মে, : প্রায় প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে এসব নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কোন নিবন্ধন নেই। যার কারনে এ ধরণের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সবার চোখের আড়ালে নিরবে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
মাদক নিরাময় কেন্দ্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে কেউ কেউ সমাজসেবা অধিদপ্তর বা ঢাকা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে সনদ নিয়ে কেন্দ্র পরিচালনা করছে।
চিকিত্সার নামে চলছে রোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতন, মাদকের ব্যবসা পরিচালনা ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অর্থ আদায়ের অভিযোগ আছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সূত্র আরো জানায়, ২০০৫ সালে ‘মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা’প্রণীত হয়। এ নীতিমালা অনুসারে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, নিবন্ধনের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা ব্যাপারটিতে মোটেও কানে নিচ্ছেন না। আবার কিছু রোগী থাকার কারণে হঠাৎ করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হয় না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্য বাড্ডার সেতু মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, এলিফ্যান্ট রোডে সেবা মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ চিকিত্সা কেন্দ্র, উত্তর গোড়ানে প্রশান্তি মাদকাসক্তি চিকিত্সায় মনোবিকাশ ও পুনর্বাসন সহায়তা কেন্দ্র, মোহাম্মদপুরে ক্রিয়া মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, মিরপুরে ফেরা মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তরায় লাইট হাউস ক্লিনিক, নিকুঞ্জ-২-এ দিশা মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, গুলশান-২-এ মুক্তি মানসিক এন্ড মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র লিমিটেড, ফার্মগেটে হাইটেক মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক লিমিটেড।
তবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও অনেক জটিলতা আছে বলে জানালেন আসক্তি পুণর্বাসন নিবাসের(আপন) প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাশেদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা নিবন্ধনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা (প্রজেক্ট প্রোফাইল) জমা দিয়েছি। কর্মকর্তারা ফাইল জিম্মি করে ঘুষ চাচ্ছেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে মাদকাসক্তদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরী। অথচ নিউ তরী, ফিউচার, আপন সহ বেশ কয়েকটি মাদকাসক্তি পুণর্বাসন নিবাস ঘুরে দেখা যায় যে এসব কেন্দ্রে উপযুক্ত পরিবেশ নেই। গাদাগাদি করে মাদকাসক্তদের রাখা হয়েছে।
অথচ বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বা সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ২০০৫ সালের জুনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র সুরক্ষিত পাকা বাড়িসহ আবাসিক এলাকায় হতে হবে এবং এতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের সুবিধাসহ নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ থাকতে হবে। এর সাথে থাকতে হবে পর্যাপ্ত প্রশস্ত জায়গা।
এ সকল সুযোগ সুবিধা রোগীরা কতটুকু পেয়ে থাকে জানতে চাইলে মোহাম্মদী হাউজিংয়ে অবস্থিত নিউ তরী মাদকাসক্ত সেবা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল জানান, আমাদের নিউ তরীতে মোটামোটি ভাল পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, রয়েছে প্রশস্ত জায়গা। এর সাথে জেনারেটর না থাকলে জরুরি বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর লাইন ভাড়া নেওয়া আছে। |