জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (০৩ ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার): প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ৪ তারিখ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হয়। সে অনুযায়ী এবছর শুক্রবার দিবসটি পালিত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কতৃক ঘোষিত এ দিবসটি মূলত ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যাবতীয় সচেতনতা তৈরীর জন্য বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি যারা ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত তাদের সুচিকিৎসা দেয়ার জন্যও এদিন জোর প্রচারণা চালানো হয়। মূলত “প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রন” প্রতিটি ক্যান্সার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্যান্সারে মৃত্যুহার অন্য সব দেশের তুলনায় বেশি। এখানে ১০ থেকে ১২ লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা গেলে শতকরা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় ২ লাখ রোগী। আর প্রায় দেড় লাখ লোক প্রতি বছর এ রোগে মারা যায়।
সারাদেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। ক্যান্সার সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে, বলছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে ফুসফুস ক্যান্সার, মুখ ও মুখগহ্বর ক্যান্সার, স্বরনালী ক্যান্সার ও মহিলাদের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে জরায়ু মুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারে সংখ্যা সর্বাধিক লক্ষ করা যায়
গত ২০০৫ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নামে নীতি প্রণয়ন করে। সেখানে বলা হয়, ২০০৫ সাল থেকে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ মারা যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী বলেন, ‘ক্যান্সারকে সমাজদেহ থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়।’ কিন্তু রোগ প্রতিরোধ, সূচনায় রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার বহুলাংশে কমানো সম্ভব। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের ক্যান্সারের প্রাথমিক প্রতিরোধ সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাছাড়া সারাদেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাও খুবই অপ্রতুল।
তিনি বলেন, ক্যান্সার সম্বন্ধে সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। জনগণের মন থেকে ক্যান্সার ভীতি দূর করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ হিসাবে ক্যান্সারকে ধরা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রতি বছর মারা যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। পৃথিবীতে যত মৃত্যু তার প্রায় শতকরা ১৩ ভাগ ঘটে ক্যান্সারের কারণে। প্রতি বছর ফুসফুসের ক্যান্সারে ১৩ লাখ, পাকস্থলীর ক্যান্সারে ৮ লাখ, মলদ্বারের ক্যান্সারে ৬ লাখ ৩৯ হাজার এবং স্তন ক্যান্সারে মারা যায় ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ।
|