দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

রক্তদাতা দিবস ২০১০
বিশ্বজুড়ে তরুনদের রক্তদানে উৎসাহিতকরনের মাধ্যমে পালিত হল

জাফর সাদেক শিবলী
নানা আয়োজনে ও নতুন উদ্দ্যমে বিশ্বব্যাপী পালিত হল বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০১০। সারা পৃথিবী জুড়ে দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা নিয়মিত রক্তদিয়ে অন্যেকে সুস্থ করে তোলে তাদের স্বীকৃতি দেয়া। একই সাথে অসুস্থ রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা।
ব্লাড গ্রুপের আবিষ্কারক কার্ল ল্যান্ড স্টেইনারের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী রক্তদাতা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
এবারের দিবসটি বিশেষত যুবশ্রেণীকে রক্তদানে আগ্রহী করে তোলার জন্য বিশেষ কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়। সেজন্যই এবারের রক্তদাতা দিবসের শ্লোগান হল- ‘বিশ্বের জন্য নতুন রক্ত’।
স্পেনের বার্সালোনা শহর কেন্দ্রিক এবারের দিবসটি পালিত হয়। যাতে করে তরুন শ্রেনী রক্তদানে আরো বেশি আগ্রহী হয়।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে মারাত্নক রক্তঘাটতি আছে পৃথিবীজুড়ে এরকম দেশ আছে মোট ৮০টি। যার ৭৯ টি দেশই উন্নয়নশীল দেশের অন্তর্ভূক্ত। কারণ উন্নয়নশীল দেশের অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী রক্তদানে সাধারণত অনাগ্রহী ও ভয় পায়।
ভারতের এপোলো হাসপাতালের মেডিক্যাল সেবা শাখার পরিচালক ড. জিএল এভাস্তি বলেন, যুব শ্রেনীর রক্ত শুধুমাত্র রক্তের অভাব মেটানোর জন্য নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনে এবং নিরাপদ রক্ত সংগ্রহেও এই শ্রেণীর রক্ত প্রয়োজন।
রক্ত নিয়ে কাজ করে পৃথিবীজুড়ে নামকরা সংস্থা গুলো হলো সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ডেনমার্ক ভিত্তিক দ্যা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ব্লাড ডোনার অরগানাইজেশন(আইএফবিডিও) ও নেদারল্যান্ড ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব ব্লাড ট্রান্সফিউশন(আইএসবিটি) প্রমুখ।
রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রক্তদাতা দিবস ২০১০ উপলক্ষে একটি পরিসংখ্যান বের করে। সেখানে দেয়া আছে যে, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৭৫ মিলিয়নেরও বেশি সংগ্রহ করা হয়। যার শতকরা ৩০ ভাগ রক্ত রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সরবরাহ করে থাকে। আরো ৩০ ভাগ রক্ত ‘ন্যাশনাল সোসাইটি’ উদ্যোগে বিভিন্ন সংগঠন থেকে সংগ্রহ করে দেয়।

বাংলাদেশ প্রেক্ষিত: মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দানের আহবানের মধ্য দিয়ে সোমবার বাংলাদেশে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত হয়েছে।
রক্তদাতা দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়(বিএসএমএমইউ) ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ স্বেচ্ছায় রক্তদান, আলোচনাসভা ও রক্ত প্রদানের জন্য ক্রেস্ট প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে।
বিএসএমএমইউ’র ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. জলি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক মুজিবর রহমান, বিএমএর মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. জলি বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় রক্ত পরিসঞ্চালন কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকার জন্য অধ্যাপক মুজিবর রহমানকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন-২০০৯’-এ বলা হয়েছে যে, সারাদেশের ব্লাডব্যাংকগুলোর তিন লাখ ৫৮ হাজার ৪২৯ ব্যাগ রক্ত পরিক্ষা করে তিন হাজার ৪২৯টি ব্যাগে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ ব্যাগের রক্তেই ছিল হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের অস্তিত্ব। বাকিগুলোর মধ্যে ৩০০ ব্যাগে ছিল হেপাটাইটিস-সি, ১৪৬টি ব্যাগে ছিল সিফিলিস ও ১৩টি ব্যাগে ছিল এইচআইভি বা এইডসের জীবাণু। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ রিপোর্ট ২০০৯-এ বলা হয়েছে যে, দেশে বিদ্যমান ৮১ শতাংশ ব্লাডব্যাংক অবৈধ। এগুলোর কোন অনুমোদন নেই।