৮ জুন, জাফর সাদেক শিবলী: ধূমপান কমাতে তামাকজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত করারোপের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমুন্নয়। এজন্য আসন্ন বাজেটে সিগারেটের ওপর ৭৯ শতাংশ এবং বিড়ির ওপর ২৬ শতাংশ হারে কর বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বাজেটে তামাকের ওপর কর আরোপ প্রসঙ্গে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি জানান।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের(বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. জুলফিকার আলী এবং বিআইআইএসএসের রিসার্চ ফেলো ড. মাহফুজ কবির গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায়। এ ছাড়া প্রায় চার লাখ লোক পঙ্গুত্ব বরণ করে। বর্তমানে দেশের ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ লোক তামাক সেবন করে। এর মধ্যে ৫৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আসন্ন বাজেটে সিগারেটের ওপর ৭৯ শতাংশ এবং বিড়ির ওপর ২৬ শতাংশ হারে কর বৃদ্ধি প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত বলেন, স্বল্পমেয়াদে তামাকজাত পণ্যের উপর ৩৩ শতাংশ দাম বাড়ালে ১৪ শতাংশ ব্যবহার কমবে এবং ৫৩ শতাংশ রাজস্ব বাড়বে। সেই সঙ্গে আগামী ৪০ বছরে ২০ লাখ লোক অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা পাবে। ধূমপানের ব্যবহার কমানোর জন্য তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন জোরদার, নাগরিক সমাজকে সোচ্চার এবং পাঠ্যপুস্তকে ধূমপানের কুফল অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, রাজস্ব আয় বড় বিষয় না। সামাজিকভাবে মোকাবিলা করে তামাকের ব্যবহার কমাতে হবে।
তবে তামাকের ওপর কর বসানোর বিরোধিতা করে সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের দেশে যেখানে ৭০ শতাংশ ভোটার তামাক সেবন করে তাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের ওপর করের বোঝা চাপানো ঠিক হবে না।’
অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে আলোচনা করেন অর্থ মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন প্রমুখ।
|