আমারহেলথ (২৬ফেব্রুয়ারী, শনিবার): দেশে প্রতি ৩ দিনে একটি এসিড সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার কাজ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান থাকলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।
শনিবার এসিড সহিংসতা প্রতিরোধ ও এসিড সারভাইভারসদের সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থার সাথে এসিড সারভাইভারদের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসিড সহিংসতার সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনায় এসব তথ্য দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এসিডদগ্ধদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। প্রায় ৯৬ শতাংশ সহিংসতা ঘটে গ্রামঞ্চলে। যার ফলে এসিড দগ্ধদের সময়মতো চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। এছাড়া গ্রামের দরিদ্র মানুষের পক্ষে উন্নত সেবার জন্য শহরে আসাও সম্ভব হয় না। এতে করে আক্রান্তকে আজীবনের জন্য বরণ করে নিতে হয় বিকৃত চেহারা কিংবা বিকলাঙ্গতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা বলেন, দুর্ঘটনাজনিত কারণেই হোক বা সমাজের হিংস্র শ্রেণীর অসভ্য মানুষের দ্বারাই হোক এসিড দগ্ধ মানুষই বুঝে এর যন্ত্রণা কতটুকু। তাই এসিড সারভাইভারসদের সেবা নিশ্চিতকরণ ও এসিড সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে আরো এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন তিনি।
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের (এএসএফ) নিজস্ব জায়গায় দপ্তর নির্মাণের জন্য ভূমি বরাদ্দের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, জমির জন্য আবেদন করা হলে তিনি তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরণের ব্যবস্থা করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান সিকদার বলেন, এসিড সন্ত্রাস দমনে জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল কাজ করে যাচ্ছে। এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার প্রতিবছর ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এ টাকা এসিড দগ্ধদের বিতরণের জন্য জেলা প্রসাশকদের কাছে তালিকা চাওয়া হলে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ পর্যন্ত বরাদ্দকৃত মোট ৭০ লাখ টাকা এসিডদগ্ধদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের প্রেক্ষিতে বাকি টাকা আক্রান্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বার্ন বিশেষজ্ঞ ও প্লাস্টিক সার্জন ডা. এজেএম সালেক বলেন, এসিড নিক্ষেপের পর আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থানে প্রচুর পরিমাণে পানি ঢালতে হবে। এর পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতস্থানে টিস্যু প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে ক্ষতের পরিমাণ অনেকাংশ কমে যাবে। এছাড়া এসিডদগ্ধদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের কাছে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
এএসএফের চেয়ারপারসন ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন তথ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, এএসএফের নির্বাহি পরিচালক মনিরা রহমান, সারভাইভার প্রতিনিধি রুনা লায়লা। এছাড়া সম্মেলনে দেশের ১২টি জেলা থেকে আগত এসিডদগ্ধ নারী, পুরুষ ও শিশুরা অংশগ্রহণ করে।
|