দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

বিশ্বজুড়ে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে : দেশে গত একবছরে নতুনভাবে এইচআইভি পজিটিভ ৩৪৩

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার): প্রতিদিনই এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। নানা কল্পনা ও পরিকল্পনা কিছুই খুব একটা কাজে আসছেনা।
সম্প্রতি জাতিসংঘ ঘোষণা করে যে, এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে বছরে প্রাণ হারায় আড়াই লাখ মানুষ। এই রোগে আক্রান্তদের ওষুধ পাওয়ার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই তাদের কাজ পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু জাতিসংঘ নয়, বিশ্ব এইডস দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বিশ্ব থেকে এইডস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই মরণব্যাধির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
২০১৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর এই রোগে নতুন সংক্রমিতদের সংখ্যা শতকরা ২৫ ভাগ কমিয়ে আনার এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে ওবামা প্রশাসন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডব্লিউএইচও বলেছে, এইডস-এইচআইভি এবং মানবাধিকার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং এই রোগে আক্রান্তদের জন্য চিকিত্সা কর্মসূচি আরও অনেক বেশি কার্যকর হবে যদি তাদের মানবাধিকারকে শ্রদ্ধা করা হয়।
ডব্লিউএইচও’র নির্বাহী পরিচালক মার্গারেট চ্যান বলেছেন, ‘এইচআইভি আক্রান্তদের অধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্য।’ তিনি বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্তদের শুধু স্বাস্থ্যরক্ষার অধিকার ভোগ করার সুযোগ থাকলেই হবে না, একইসঙ্গে তাদের শিক্ষা, কাজ, বাসস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়ের সুযোগ পাওয়ার অধিকারও রয়েছে।’
চ্যান বলেন, ‘এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে লজ্জার মনোভাব বা তাদের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শনই বিশ্বে তাদের খারাপ চোখে দেখার প্রবণতা অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বলেন, সারা দুনিয়ায় ২০০৯ সালে এইচআইভি পজিটিভ বলে চিহ্নিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ এবং বেশিরভাগ অঞ্চলে এইডস রোগীর সংখ্যা স্থিতিশীল থেকেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা নিশ্চিত করা গেছে মোট আক্রান্তদের তিন ভাগের এক ভাগের জন্য। ১৯৮০-র দশকে এই রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এইডসে প্রাণ হারিয়েছেন আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ।
আর এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা বাংলাদেশে প্রায় ১২ হাজার। তবে সরকারি হিসেবে এই সংখ্যা এক হাজার ৭৪৫ জন। এদের মধ্যে এইডস আক্রান্ত রোগী হচ্ছে ৬১৯ জন এবং মারা গেছেন ২০৪ জন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক সম্প্রতি বলেছেন, এইচআইভি-এইডস প্রতিরোধে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত অত্যন্ত সচেতনতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং দেশে এইচআইভি-এইডস পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। এইচআইভি-এইডস বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও সংক্রমণের গতিধারা উল্লেখ করে তিনি তার এ সন্তুষ্টির পক্ষে যুক্তি দেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে এবছর অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে দেশে নতুনভাবে এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন ৩৪৩ জন, নতুন এইডস রোগীর সংখ্যা ২৩১ জন এবং এ সময়ে এইডস রোগে মারা গেছেন ৩৭ জন। ১৯৮৯ সালে প্রথম এইডস রোগী সনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশে এ পর্যন্ত এইচআইভি পজিটিভের সংখ্যা ২০৮৮ জন, এইডস রোগীর সংখ্যা ৮৫০ জন, যার মধ্যে মারা গেছেন ২৪১ জন। এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৭৪৫, ৬১৯ ও ২০৪ জন।