দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

ইউএনএইডস এর প্রতিবেদন-

‘এশিয়ার মহিলাদের মধ্যে এইডস ছড়াচ্ছে লাগামহীনভাবে’

১, জুলাই, জাফর সাদেক শিবলী: জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা(ইউএনএইডস)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার দেশগুলোর জনগনের মধ্যে একই সিরিঞ্জে মাদক নেয়ার কারনে এইডস সমস্যা লাগামহীনভাবে বাড়ছে। মেয়েদের মধ্যে এইডস রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে বেশ জোরেশোরে৷ এই রোগ প্রতিরোধ করতে প্রতিটি দেশের সরকারকে গ্রহণ করতে হবে বিশেষ পদক্ষেপ৷
সোমবার ইউএনএইডস দপ্তর থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে এশিয়ায় এইডস রোগে আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে শতকরা ১৮ শতাংশই ছিল মহিলা৷ ২০০৭ সালে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে৷
এশিয়ায় জাতিসংঘের দপ্তর ইউনাইটেড নেশান্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেন এর আঞ্চলিক পরিচালক মোনি পিজানি বলেন, এশিয়ার সরকারদের এই রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের। বিশেষ করে মহিলাদের এইডসের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে হবে৷ কারণ একটি মহিলাকে বাঁচানোর অর্থ হল একটি পরিবারকে বাঁচানো৷
মোনি পিজানি আরো বলেন, একজন পুরুষ যদি নিয়মিত যৌনকর্মীদের কাছে যায় তাহলে সে খুব সহজেই তাঁর স্ত্রীকে নানা ধরণের যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত করতে পারে৷ শুধুমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই এই রোগকে প্রতিহত করা সম্ভব৷
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে পাটায়ায় আয়োজিত একটি সেমিনারে পিজানি একথা বলেন৷
ইউএনএইডস-এর তথ্যানুযায়ী, এশিয়ায় মোট ৪.৭ মিলিয়ন লোক এইচআইভি পজিটিভ। গত ৮ বছরে এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এশিয়ার মোট এইডস রোগীর অর্ধেক ভারতের।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান মতে কাম্বোডিয়ায় ৪৭, ভারতে ৩৭, ইন্দোনেশিয়ায় ২১, মালয়েশিয়ায় ১৫, নেপালে ২৪, ফিলিপাইন্সে ৪০, শ্রীলঙ্কায় ৩৭ ও থাইল্যান্ডে ৩৫ শতাংশ পরিমানে এইডস রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গোটা এশিয়ায় প্রায় এক কোটি মহিলা যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে এবং অন্তত সাড়ে সাত কোটি পুরুষ তাদের কাছে নিয়মিত যাচ্ছে৷ এজন্য ২০০৬ সাল থেকে মহিলাদের মধ্যে এইডস বাড়ছে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বব্যাপী ৩৩.৪ এইচআইভি পজিটিভ আছে। যার ৩০মিলিয়ন গরীব স্বল্পোন্নত দেশের অধিবাসী। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভিতে মারা যায় এবং নতুন করে ২.৭ মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত হয়। নিন্ম ও মধ্যবিত্ত দেশে এই প্রাণঘাতী রোগ সংক্রমনের হার শতকরা ৪২ ভাগ। আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চলের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬৭ ভাগ পজিটিভ। গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে শতকরা ৪৫ ভাগ নিন্ম ও মধ্যবিত্ত দেশের।

ওয়েবসাইট অবলম্বনে