
এইডস ঝুঁকিতে বাংলাদেশ |
|
এইডস কি? |
এইডস হচ্ছে এইচআইভি (HIV) নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হও |
এইডসের শুরুর কথা: |
|
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে এইডসের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ: |
শরীরের ওজন কমে যাওয়া, ক্লানি- বোধ করা, দীর্ঘদিন ধরে জ্বর থাকা, মুখে বা গলায় ঘা, বমিবমি ভাব বা বমি, এক মাসের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া, মাথা-চোখ ও মাংসপেশিতে ব্যথা, গা ম্যাজ ম্যাজ করা, চামড়ার উপর নানা ধরনের ফুসকুড়ি, নাক-কান-গলার সমস্যা, ঠোঁট ও যৌন অঙ্গের চারপাশে ধীরে ধীরে ফোসকা ও ঘা ছড়িয়ে পড়া, দেহের ওজন শতকরা দশ ভাগের বেশি কমে যাওয়া, এক মাসের অধিক সময় ধরে মাঝে মধ্যে বা সারাক্ষণ জ্বর থাকা, এক মাসের অধিক সময় ধরে ডায়রিয়া থাকা। |
এইচআইভি যেভাবে ছড়ায়: |
এইচআইভি আক্রান্ত কারো সাথে অনিরাপদ (কনডম ব্যবহার না করে) যৌন সম্পর্ক করলে, আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে বা তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যেমন- সুঁচ, চাকু, কাঁচি, ব্লেড, ক্ষুর, সিরিঞ্জ ইত্যাদি ব্যবহার করলে, একই সিরিঞ্জ দিয়ে শিরার মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে, এইডস আক্রান্ত নারী গর্ভধারণ করলে গর্ভের সন্তানের এইডস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এইডস আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পানের মাধ্যমে শিশু এইডস আক্রান্ত হতে পারে। |
এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যে সব আচরণে কোন ঝুঁকি নেই: |
হাতে হাত মিলালে বা কোলাকুলি করলে, এক সঙ্গে বসবাস, খাওয়া দাওয়া বা খেলাধুলা করলে, একই পাত্রে খাদ্য গ্রহণ করলে, একত্রে গোসল করলে বা একই পুকুরে গোসল করলে, হাঁচি, কাশি ও থুথুর মাধ্যমে, বিড়াল, কুকুর, বা গৃহপালিত পশু-পাখি হাত দিয়ে স্পর্শ করলে, রোগীর সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে বা রোগীর জামা-কাপড়, তোয়ালে-গামছা, থালা-বাসন, গ্লাস ব্যবহার করলে, একই পায়খানা ব্যবহার করলে, এইডস রোগীদের স্পর্শ করলে, খাদ্য, পানীয়, মশা, মাছি, উকুন, ছারপোকা, আরশোলা, তেলাপোকা বা অন্য কোনো কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এইডস ছাড়ায় না। |
কম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলো হলো: |
এক মাসের অধিক সময় ধরে কাশি থাকা, শরীরে চুলকানি থাকা, মুখগহ্বর ও গলায় ক্যানডিডা ফাঙ্গাসে আক্রান- হওয়া, হারপিস সিমপ্লেঙের সংক্রমণ ক্রমাগতভাবে ছড়িয়ে পড়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানের লিম্ফনোডগুলো ফুলে যাওয়া। উপরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও দুটি কম গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গগুলো এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তের মধ্যে দেখা গেলে মনে করা যেতে পারে তিনি এইডস রোগে ভুগছেন যদিও আরো অনেক ভাইরাস জনিত রোগে ওই একই রকম উপসর্গগুলো দেখা যায়। |
এইডস একটি প্রাণঘাতী রোগের নাম। বাংলাদেশসহ বর্তমান বিশ্বের জন্য এটি একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র(সিডিসি)-এর এক হিসেব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কমপক্ষে ৫৬ হাজার মানুষ এইডস ভাইরাসে আক্রান- হচ্ছে। আগের হিসাব থেকে এই হার ৪০ শতাংশ বেশি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে পৃথিবীতে যে কয়টি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম । বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএইড সহ বেশ কয়টি দেশী-বিদেশী সংস্থা দেশে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে কাজ করছে। এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো এ রোগ সম্বন্ধে পুরোপুরি জানা ও সতর্ক থাকা। কেননা বাঁচতে হলে জানতে হবে।
য়া একটি ব্যাধি, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে করে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে। এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সাথে সাথেই এইডস হয়না। কিন্তু একবার সংক্রামক এইচ.আই.ভি. শরীরে ঢুকলে এইডস হওয়া অনিবার্য। এইডস রোগের মূলে রয়েছে হিউম্যান ইমুনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা এইচআইভি।
১৯৮০ সালের শেষ বা ১৯৮১ সালের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা কিছু রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখতে পান। প্রথমে নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু প্রমোদবালাদের মধ্যে এমন কিছু অসুখ, যেমন-কাপোসিস সার্কোমা, ত্বকের বিরল এক ধরনের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের পাখিবাহিত এক ধরনের সংক্রমণ লক্ষ করা যায়। এ ঘটনার পরপর একই অসুখ দেখা গেল শিরায় নেশার ওষুধ নেয় কিংবা অনিরাপদ রক্ত নিয়েছে এমন লোকদের মধ্যে। ১৯৮২ সালে এ রোগের নাম দেয়া হয় অ্যাকোয়ার্ড ইম্যুনু ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম-সংক্ষেপে এইডস (AIDS)।
Copyright © 2009 |Amarhealth|