স্টাফ রিপোর্টার: সংসদে এসিড সংক্রান্ত অপরাধ কমিয়ে আনতে বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। গত সোমবার এসিড অপরাধ রোধে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো ও এসিডসংক্রান্ত মিথ্যা মামলা রোধে দু্ই বছর থেকে সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান করে সংশোধিত এসিড নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১০ সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি এ বিলে ২২ সদস্যের জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল পুনর্গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের উত্থাপিত এ বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আদেশ দেন স্পিকার।
সর্বশেষ ৮ বছর আগের এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০২ কে সংশোধন করে নতুন বিলটি উত্থাপন করা হয়। সংশোধিত বিলে এসিডসংক্রান্ত মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তি সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ (পূর্বের ৫বছর) বছর করার নতুন বিধান করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কাউন্সিলের জেলা কমিটিতে একজন সংসদ সদস্য থাকবেন উপদেষ্টা। আর সংশিষ্ট পিপি, জেলা মহিলা সংস্থার সভানেত্রী, স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও নির্বাচিত মহিলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের একজন সদস্য হিসেবে রাখা হবে।
এর আগে ২০০৯ সালের ২ নভেম্বর বিলটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয় যে, এসিডের আমদানি, উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া ক্ষয়কারী দাহ্য পদার্থ হিসেবে এসিডের অপব্যবহার রোধে এবং এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ প্রণীত হয়েছিল। এতে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল গঠন করা হয়।
এ কাউন্সিলে আইন সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সদস্যসংখ্যা ২২ করে কাউন্সিল পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এসিড অপরাধসংক্রান্ত মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বাড়ায় তা রোধকল্পে মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তি বাড়ানোও যুক্তিসংগত। |