দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যালস আমার বিনোদন বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

বাংলাদেশের ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনির বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।

আমারহেলথ ডেস্ক, ১৪ মার্চ : বাংলাদেশের ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনির বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। প্রতি বছর অন্তত ৪০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০ বছরে দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আর এ জন্য ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এবং নিয়ম না মেনে ওষুধ গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করেছেন চিকিৎসকরা।
কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, "এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, কিডনি জটিলতার কারণে কতোটা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।"
তিনি বলেন, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রতিদির হাঁটার অভ্যাস, খাওয়ার সময় বাড়তি লবণ না নেওয়া এবং ধূমপান ত্যাগ করাই কিডনি জটিলতা থেকে দূরে থাকার মূলমন্ত্র।
তবে সরকারকেও এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও কিডনি পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা উচিৎ। তা সম্ভব হলে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষও আগে থেকে সতর্ক হতে পারবে, কিডনি রোগে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে আসবে।

নিরব ঘাতক

কিডনি বিশেষজ্ঞ এম এ সামাদের ভাষায়, এ রোগ হলো এক নিরব ঘাতক।
"সাধারণত কিডনি রোগের উপসর্গগুলো রোগী বুঝতে পারেন অনেক দেরিতে, ততোদিনে হয়তো তার কিডনির ৭৫ শতাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।"
আগেই সনাক্ত করা গেলে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীকে সারিয়ে তোলা সম্ভব বলে জানান তিনি। যারা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, সাধারণ রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমেই তাদের কিডনির সুস্থতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
এম এ সামাদ বলেন, প্রস্রাবের রং, পরিমাণ ও দিনে কয়বার হয়েছে তার সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে, শরীরের কোনো অংশ হঠাৎ ফুলে উঠলে এবং দম কমে গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
কিডনি ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা যায়, যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের ৫১ শতাংশই জানেন না যে, তারা এ রোগে ভুগছেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ৬৫ শতাংশই তাদের রোগের ব্যাপারে সচেতন নন।