
আমারহেলখ ডেস্ক: কনকনে শীতে সারা দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের বেশির ভাগ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে কাওড়াকান্দি-মাওয়া রুটে ১৩ ঘণ্টা এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। রাতের বেলায় বেশির ভাগ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বেশ কিছু জায়গায় কুয়াশা কমে আসবে। তবে রাতে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ ফরিদপুর, শরীয়তপুরসহ বরিশাল বিভাগে বিস্তৃত হতে পারে। তবে ১০-১১ তারিখের দিকে তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করবে। এ সময় আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। আরব সাগর থেকে দিল্লি হয়ে বাংলাদেশে আসা ঘন কুয়াশা রাজধানীর ওপর থেকে সরে যাওয়ায় আজ থেকে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়তে পারে।
গত সোমবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রোববারের চেয়ে ৪ ডিগ্রি কমে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। সর্বনিম্ন ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ টেকনাফে ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল, ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আগামী কয়েক দিন একই অবস্থা থাকতে পারে।
জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি। গত শনিবার এ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ছিল ৬২৯ জন। গত রোববার তা বেড়ে ৬৮৮ জনে দাঁড়ায়। গতকাল সোমবার ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৮৩ জন।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এ আজহার বলেন, শীতে জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যাদের শ্বাসকষ্ট রোগ আছে, শীতকালে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। শীতে শিশুদের ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেশি। তিনি বলেন, শীতের কষ্ট থেকে লাঘবের জন্য ভোরের কুয়াশা যাতে শরীরে না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
|