কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে সরকার
বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৩৯ বছর অতিক্রম করেছে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময় দেশে স্বাস্থ্যনীতি না থাকাসহ বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশের স্বাস্থ্যথাতে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকার কর্তৃক প্রথম স্বাস্থ্যনীতি প্রনীত হলেও তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কতৃক স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে যে উন্নয়ন সূচীত হয়েছিল তা পরবর্তী জোট সরকারের আমলে ধ্বংস করে দেয়া হয়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পায়নি সাধারণ জনগণ। তাই বর্তমান সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায়। ৩৯তম বিজয় দিবস উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ড. এম. ইকবাল আর্সলান বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সারাদেশকে ২৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ইতোমধ্যে সরকার ১০ হজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ১৫ হাজারের মধ্যে ১৩ হাজার ক্লিনিকের আবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যখাতে নার্স ও চিকিৎসা সহকারীসহ প্রয়োজনীয় লোকবল শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে। এসব কাজ সম্পন্ন করে দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচীত করবে সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সংবিধানের ১৫-ক এর মাধ্যমে দেশের সকলের জন্য যে সাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন তা এই সরকার বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ডক্টর্স ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট-এর সভাপতি ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে কোনো সরকারের স্বাস্থ্যনীতিই সার্বিকভাবে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নীতি ছিল না, এখনও নেই। স্বাধীতার পূর্বে দেশে ধনী-গরীবের বৈষম্য ছিল কম। কিন্তু তখন ছিল পূর্ব পাকিস্তানের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য। এখন দেশে চলছে ধনী-গরীবের বৈষম্য। বর্তমান বিশ্বে এখন এটাই প্রচলিত। ধনীরা খুব ধনী হচ্ছে। আর গরীবরা আরো বেশি গরীব হচ্ছে। এই অতি দরিদ্রদেরকে কেউই টেনে তুলছে না। স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যনীতি জীবনের জন্য, যেখানে জীবন নেই সেখানে
স্বাস্থ্যনীতিতো মূখ্য বিষয় নয়। এখন চিকিৎসা সেবাকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বানিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। ফলে ধনী ও গরীবের স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে বাম চিকিৎসক নেতা ও ডক্টর্স ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টসহ সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. শহিদুল্লাহ শিকদার বলেন, ৩০ লাখ শহীদের জীবন, ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত ও কোটি কোটি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৩৯ বছরে চিকিৎসা ব্যবস্থায় আশানুরুপ অগ্রগতি হয়নি। দেশের গরীব ও অসহায় মানুষ এখনও তাদের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না । ধনীরা বড় বড় প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষের লালিত স্বপ্ন ছিল তাদের মৌলিক অধিকার উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়া। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় লালিত সেই স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের ধনী-গরিব সকলের জন্য যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি এখন তৈরি হয়নি। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মতো বিঞ্জানভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও মেডিক্যাল শিক্ষা গড়ে ওঠেনি। তাই তিনি বিজয়ের এই ৩৯তম দিনে ধনী-গরীব সকলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবি জানান।
|