আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ২০০৯

 

দেশের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থায় ২০০৯ ছিল ঘটনাবহুল একটি বছর । নতুন সরকারের সাথে সাথে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছিল মানুষের মধ্যে । ২০০৯ সালে দেশের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট তৈরী করেছেন মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ
১. বাংলাদেশে ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা সোয়াই ফ্লু । দেশে প্রথম সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত হয় ১৮ জুন, আমেরিকা ফেরত কিছু ছাত্রের মাধ্যমে। এরপর থেকে দেশে সোয়াইন ফ্লু রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিপায়। ১৮ জুন থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৯৮ জন আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ১টি শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লুর পর্যায়কে লেভেল এ ঘোষণা করা হয়।
২. গত ২১ জুন ২০০৯ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি খসড়া স্বাস্থ্যনীতি প্রকাশ করে।
৩. গত ২০০৯ সালের জুলাইর ৩য় সপ্তাহে জ্বরের ওষধ খেয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৭ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি এ ঘটনার জন্য রিড ফার্মাসিটিক্যালসকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
৪. গত ২০ অক্টোবর ২০০৯ ভেজাল ওষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগের মামলায় রিড ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমানকে আদালত কারাগারে প্রেরণ করে।
৫. গত ৫ নভেম্বর ২০০৯ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশান (বিএমএ) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের ৪০ সদস্যের পূর্ন প্যানেল জয় লাভ করে। সভাপতি পদে অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান ও মহাসচিব পদে অধ্যাপক ডা. শারফুদি্দন আহমেদ নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার পশ্ন তুলে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব এই নির্বাচন বর্জন করে।
৬. গত ১৭ নভেম্বর ২০০৯ থেকে টানা ২৭ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অপারেশনে অস্টেলিয়ায় বাংলাদেশী শিশু তৃষ্ণা ও কৃষ্ণা জোড়া মাথা পৃথক করা হয়। এরপর তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়। মস্তিস্কে কোন ক্ষতি ছাড়াই দুই বোনকে আলাদা করতে অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেলবোর্নের রয়েল চিলড্রেনস হসপিটালের নিউরোসার্জন ভার্জিনিয়া ম্যাক্সনার।
৭. দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৩ ডিসেম্বর ২০০৯ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ২৭তম বৈঠকে সব মেডিকেল কলেজকে অধিভুক্ত করার যৌক্তিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দাঁড় করাতে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
৮. গত ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ সরকারী হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের মর্যাদা ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নিত করা হয়।

৯. ১ লা ডিসেম্বর ২০০৯ বিশ্ব এইডস দিবসে বাংলাদেশ এইডসের পরিসংথ্যান তুলে ধরা হয়। ২০০৯ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৫০ জন, এর মধ্যে এইডস রোগী চিহ্নিত হয়েছে ১৪৩ জন। ২০০৯ সালে এইডসে মারা যায় ৩৯ জন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৯৫ জন, এর মধ্যে এইডস রোগী ছিল ৪৭৬ জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ১৬৫ জন।