আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছরে মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার ৭৬৪ জন

এইচ এম দিদার

গত ৩ ফেব্রুয়ারি কাকরাইলে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র হামিম শেখের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন তার মা সোনিয়া শেখ। ঘটনায় সময় তিনি আহত হন। এর দুই দিন পরই বিমানবন্দর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে মায়ের হাত ধরে রাস্তা পার হতে গিয়ে বাসের চাপায় মৃত্যু হয় সাত বছরের শিশু সুমি আক্তারের। আহত হন মা হাসিনা বেগম (২৬) ও তাঁর ১৪ মাস বয়সী ছেলে হাসান।

এভাবে প্রতিনিয়ত রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। হারিয়ে যাচ্ছে মুল্যাবান অনেক প্রাণ।সম্পদের ক্ষতিতো আছেই। পত্রিকার পাতা উল্টালে এমন কোন দিন চোখে পড়বেনা যে দিন কোন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়,  বছরে সারা দেশে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে চার হাজার ৪২৬টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছে তিন হাজার ৭৬৪ জন, আহত তিন হাজার ২৮৪। দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবছর ৫৬ কোটি টাকার জানমালের ক্ষতি হচ্ছে।

খুব সম্প্রীতি ঢাকা মহানগর পুলিশের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ঢাকা মহানগরেই ২০০৯ সালে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৩২৪ জন, আহত ২৭২। চালকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৪০টি। পথচারীর কারণে ১২টি। এই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ঢাকা শহরে ৪৬টি দুর্ঘটনার মামলা হচ্ছে। তবে এ রকম দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, সব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ করে মৃত্যু না হলে মামলা হয় না।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার অফিস সুত্রে জানা যায় গত বছর ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে চার লাখ ৬৯ হাজার ৬৬০টি মামলা হয়। এ সময় আর্থিক জরিমানা হিসেবে ২০ কোটি ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। আটক করা হয় ১১ হাজার ৫৪৫টি যানবাহন।

এদিকে গত বছর রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬১৭টি। এর মধ্যে চূড়ান- প্রতিবেদন দিয়ে ২১৯টি মামলা শেষ করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্র হয়েছে ২৪১টির। ফলে কোনো অভিযুক্তই সাজা পায়নি। ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালত সূত্রে গতকাল সোমবার এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত বছর যে ১৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, এগুলো ২০০৮ সালের বা তারও আগের। ১৯টি মামলার মধ্যে আটটিতে আসামি খালাস পেয়ে গেছে।
এ কারণেই গত সাত দিনে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সামনে এনেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।