আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

রক্তদাতাদের সম্মাননা দিলো কোয়ান্টাম

আমারহেলখ ডেস্ক, 26 জুন রবিবার: মরণাপন্ন মানুষের রক্তের প্রয়োজনে যারা বার বার এগিয়ে এসেছেন- সেই সব রক্তদাতাদের সম্মাননা জানালো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩২১ জন রক্তদাতার হাতে এই সম্মাননাপত্র তুলে দেন ডা. এম আর খান ও অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

কমপক্ষে দশবার রক্ত দিয়েছেন এমন ৩০০ জন রক্তদাতাকে 'সিলভার মেডাল', সনদ এবং বিশেষ পরিচয়পত্র দিয়েছে কোয়ান্টাম। আর ২৫ বার রক্ত দিয়েছেন এমন ২১ জনকে দেওয়া হয় 'গোল্ডেন ক্রেস্ট', সনদ এবং বিশেষ পরিচয়পত্র।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, "রক্ত দান করলে কমে না। বরং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, এর মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের ঝুঁকি কমে যায়।"

রক্তের প্রয়োজন অন্য কিছু দিয়ে মেটানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "রক্ত দিয়েই এই চাহিদা মেটাতে হয়। আমাদের এ বিষয়টি মনে রেখে রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে।"

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর পাঁচ লাখ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। এর ২৬ শতাংশ পূরণ হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের প্রতি হাজারে মাত্র ০.৪ জন মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দেন। অথচ সুইজারল্যান্ডে এই হার ১১৩ জন। ইউরোপের অন্যান্য দেশে এই হার ৬০ থেকে ৮০ জন। প্রতি হাজারে দুইজন স্বেচ্ছায় রক্ত দিলেই বছরের পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, বাংলাদেশে বই পড়া আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, "রক্ত দান একটি আনন্দের কাজ। আত্মার শান্তি, তৃপ্তি ও আনন্দের জন্য দান করলে আমরা এদেশের সবার রক্তের চাহিদা পূরণ করতে পারব।"

কোয়ান্টামের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আর বোখারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. এবিএম ইউনূস, রক্তদাতাদের পক্ষে হাবিবা রহমান হ্যাপী এবং রক্ত গ্রহীতাদের মধ্যে সালমা শিকদার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৬ জন 'ব্লাড-ডোনার' রয়েছে।