আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

হাসপাতালের ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ওপেন টেন্ডারে

স্টাফ রিপোর্টার

কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়ে আদালতে মামলাজনিত জটিলতার অবসান হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে শত কোটি টাকার ওষুধ সরবরাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ চুরি বন্ধে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ওষুধপত্র ক্রয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওষুধ কেনার জন্য ইতিমধ্যেই ২৮টি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করেছে।সিএমএসডির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছয় শতাধিক আইটেমের ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার থেকে টেন্ডার সিডিউল বিক্রি শুরু হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি শেষ দিন থাকলেও কোম্পানিগুলোর অনুরোধে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার সিডিউল কেনা ও ড্রপের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ২/১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা কোম্পানিকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হবে।
সিএমএসডির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল হক মল্লিক জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের মধ্যে সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে চাহিদাপত্র অনুসারে ওষুধ পৌঁছে দেয়া হবে। কোম্পানিগুলো থেকে যেসব ওষুধসামগ্রী কেনা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে নিউট্রিয়েন্ট, কার্ডিওভাকুলার ড্রাগ, সিএনএস ড্রাগ, ইনফিউশন ড্রাগ, এন্টি হিস্টামিন, এন্টি ইনফেকটিভ, এন্টি অ্যাজমাটিক, কফ প্রিপারেশন ড্রাগ, এন্টি ডায়াবেটিক, গাইনিকোজিক্যাল, এনালজেসিক এন্ড এন্টি ইনফ্লামাটরি ড্রাগ, নাজ্যাল স্প্রে ড্রাগ, এন্টি ইনফেকটিভ ইনজেটেবল ইত্যাদি। তিনি জানান, কিছুদিন আগে জনৈক ব্যক্তির উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনের কারণে ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। ১৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক প্রশাসন ডা. মোঃ আবুল হাসনাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রে আদালতের আর কোন বিধিনিষেধ নেই। গত বছর পর্যন্ত এমএসআর খাতে ওষুধ বাবদ সরকারি মোট বরাদ্দের শতকরা ৭০ ভাগ সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে এবং অবশিষ্ট শতকরা ৩০ ভাগ ওষুধ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে কেনা হতো। সেখানে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ব্যের ফলে পুকুর চুরি হতো। বছরের পর বছর সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে সব ধরনের ওষুধ অতিরিক্ত দুই-তিনগুণ বেশি দামে কিনতে হতো। রোববার দুপুরে সিএমএসডি ভবনে কথা হয় পপুলার ফার্মার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবদুল হাই সিদ্দিকী ও বায়োফার্মার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মুজিবর রহমানের সঙ্গে। তারা এ উদ্যোগকে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের মাইলফলক উল্লেখ করে বলেন, আগে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে কোম্পানিগুলো সরাসরি দরপত্র ফেলার সুযোগই পেত না। প্রতিটি সিভিল সার্জন অফিসে মধ্যস্বত্বভোগী সংঘবদ্ধ চক্র তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ঠিকাদারি ব্যবসা করত। বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে তা সরবরাহ করত। সিএমএসডিতে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত ২৮টি কোম্পানি হল এপিসি, ইনসেপটা, ইবনেসিনা, পপুলার ফার্মা, পপুলার ইনফিউশন, এসিআই, জেনারেল, অ্যালকো, ইউনিমেড ইউনিহেলথ্‌, সানোফি এভেনটিস, প্যাসিফিক, বায়োফার্মা, একমি, টেকনো ড্রাগ, অপসো স্যালাইন, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল, রেপকো ল্যাব, জিসকা, গ্লোব, বেক্সিমকো, লিবরা ইনফিউশন, ভার্গো, স্কয়ার, এসকে এন্ড এফ, কেমিস্ট, নভো হেলথকেয়ার, রেনেটা ও জেসন।