স্বাস্থ্যের সব খবর সবসময়
নানা আয়োজনে সারাদেশে পালিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস |
০৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক প্রচলিত সব আইন বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন । তিনি বলেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর নারী ও পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এছাড়া ১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতি পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতিসহ পর্যায়ক্রমে নারী ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে নারী দিবসের শতবর্ষ পূর্তিকে কেন্দ্র করে বর্ণাঢ্য সকাল ৯টায় র্যালি বের করা হয়। শুরুতেই বেলুন উড়িয়ে র্যালির উদ্বোধন করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক লতিফা আকন্দ। র্যালিটি পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।র্যালি শেষে সকাল ১০.৩০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শহরের প্রাণ কেন্দ্র শহীদ হাসান চত্ত্বরে লোকমোর্চা, গভর্নেন্স কোয়ালিশন, সিডিএফ ও জিসিএর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।দুপুর ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্ত্বরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। এদিকে নোয়াখালীতে আলোচনা সভা, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিবি তহুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। রংপুরে সকাল ১১টায় পুলিশ কমিউনিটি চত্ত্বরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সমবেত হয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রংপুর পুলিশ কমিউনিটি মিলনায়তনে জমায়েত হয়। এরপর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। ঝিনাইদহে ০৮ মার্চ সকালে পুরাতন ডিসিকোর্ট চত্ত্বর থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমিতে ফিরে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জেলা প্রশাসক রমা রাণী রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার রেজাউল করিম। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় মহিলা সমিতি, ব্র্যাক, আলোসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সকালে কানাইখালী স্টেডিয়াম মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। র্যালিটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এদিকে চট্রগ্রামে মিল্পকলা একাডেমিতে নারী দিবস উপলক্ষে বর্নাঢ্য র্যালী, ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবাবে বর্নাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস ও এ দিবসের শতবর্ষপুর্ত। উল্লেখ্য ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা করা হয়। এই দিনে সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অষ্ট্রিয়া ও জার্মানিতে লক্ষাধিক নারী মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ দিনটি উদযাপন করেন।১৯১৩ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।১৮৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুঁচ কারখানায় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবিতে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে জার্মানির নারীনেত্রী ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের প্রস্তাব করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনে নারী দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। |
ফয়সাল আকবর: নানা আয়োজনে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবর্ষ পূর্তি পালিত হয়েছে। দিবসটির এবারের মূল প্রতিপাদ্য- সমধিকার, সমান সুযোগ, সকলের জন্য অগ্রগতি। সারাদেশে সাড়ম্বরে নানা আয়োজন ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বাংলাদেশের নারী সংগঠনগুলোসহ কবশকিছু এনজিও নারী দিবস উপলক্ষে র্যালী, চিত্রাংকন, আলোচনা সভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ০৮ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন যাত্রা শুরু হয়। এ সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয় বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীসহ বিপুল সংখ্যক নারী। মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, নারী নেত্রী খুশী কবীর, তালেয়া রেহমান, ফারাহ কবীর, লায়লা পারভীন, সনজীদা খাতুন প্রমুখ। এছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও নানা কর্মসূচি পালন করেছে।অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন, চিত্রাঙ্কণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও সম্মানা প্রদান অনুষ্ঠান।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১০ উপলক্ষে ০৮ মার্চ সকালে এলজিইডি ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়নের আওয়ামী লীগের ভূমিকা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালে তারাই প্রথম নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে নারী নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া নারীদের সম্মাননা দেয়া হয়।
Copyright © 2009 |Amarhealth|