আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

সংসদের চলতি অধিবেশনেই মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন হালনাগাদ করা হচ্ছে

হাসান শাহরিয়ার: চলতি সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) হালনাগাদ অ্যাক্ট। ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবিত হালনাগাদ অ্যাক্টের খসড়া সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের পর অ্যাক্টের সংশোধিত, পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত প্রয়োজনীয় ধারা-উপধারা সূক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে ভেটিং-এর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ভেটিং শেষে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তা ফেরত এসেছে। নিয়মানুসারে পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ অ্যাক্টটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপিত হবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত ধারায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। উল্লেখযোগ্য ধারার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান, সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিএমডিসির অনুমতিপত্র, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া প্রাইভেট প্রাকটিস নিষিদ্ধ, প্রেসক্রিপশনে রেজিস্টেশন নম্বর উল্লেখ, ভুয়া ডিগ্রিধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ইচ্ছামাফিক বিএমডিসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেয়ার ক্ষমতা রহিতকরণ ইত্যাদি। এছাড়া বিএমডিসিকে কার্যকর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার অনুকূল ধারাও এতে সংযোজিত হবে। জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয় বিএমডিসির অর্থ খরচের ব্যাপারে একটি ধারার বিষয়ে আপত্তি তুলে এর পরিবর্তে নতুন ধারা সংযোজনের সুপারিশ করেছে। তা সংশোধনের জন্য ফের আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা থাকলেও আপত্তিটি মন্ত্রিপরিষদে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আরেক দফা হালনাগাদকৃত অ্যাক্টটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভেটিংকালে এ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অডিট মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় দ্বারা করা উচিত বলে আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএমডিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অডিট করার এখতিয়ার ওই কার্যালয়ের নেই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক গত ০৬-০৩-২০১০ শনিবার  জানান, মন্ত্রিসভায় পাসের পর হালনাগাদকৃত অ্যাক্টটি অবিলম্বে পাসের জন্য সংসদে উত্থাপিত হবে। চলতি সংসদ অধিবেশনে তা পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে বিএমডিসি প্রায় নিষ্ক্রিয়। হালনাগাদ অ্যাক্ট সংসদে পাসের পর নতুন কমিটি গঠন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে বিএমডিসিকে সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সেন্ট্রাল অ্যাক্রিডিটেড বডি (কেন্দ্রীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা) হিসেবে কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিএমডিসি অ্যাক্ট হালনাগাদ করা হলে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল শিক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বিএমডিসি আহুত ১৯৮০ সালে প্রণীত অ্যাক্ট অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। গত ৩০ বছরে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সরকারি ১৮টি, বেসরকারি পর্যায়ে ৪২টি মেডিকেল কলেজ ও ১২টি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরনো অ্যাক্ট প্রায় অকার্যকর।
সূত্র জানায়, হালনাগাদ বিএমডিসি অ্যাক্ট পাস হলেই প্রায় অকার্যকর বিএমডিসিকে ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন কাউন্সিলর নিয়োগ করা হবে। সংশোধিত অ্যাক্টে সরকারি সব মেডিকেল কলেজ থেকে ১ জন করে এবং সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে ২ জন প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়, সংসদ ও সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রতিনিধি নিয়ে নতুন কাউন্সিলর নির্বাচন করা হবে। নতুন অ্যাক্ট প্রণীত হলেই নতুন কাউন্সিলর নির্বাচন করা হবে। বর্তমান কমিটির সভাপতি (বার্ধক্যের কারণে চলাচলে অক্ষম) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে রেখেছেন।
বিএমডিসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিএমডিসি সরাসরি তদন্ত করতে পারে না। কেউ অভিযোগ করলে তারা তদন্ত করে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারী পরে আর যোগাযোগ রাখে না বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন। জানা গেছে, নতুন অ্যাক্টে অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান থাকছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন নেই এমন চিকিৎসক কাজ করছেন। ফলে তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ নিজের নামের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডিগ্রি সাইনবোর্ডে জুড়ে দিয়ে প্রাকটিস করছেন। বিএমডিসির একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের কয়েকটি দেশের সার্টিফিকেটকে তারা অনুমোদন দিয়ে থাকেন। কিন্ত বর্তমানে বিদেশী ডিগ্রি ঝুলিয়ে যারা প্রাকটিস করছেন তাদের অধিকাংশই ভুয়া বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন। জানা গেছে, চিকিৎসকদের জন্য প্রেসক্রিপশনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলকা করা হচ্ছে। চিকিৎসকের অবহেলা হয়েছে মনে করলে রোগী বা তার অভিভাবক যেন রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে বিএমডিসিতে আবেদন করতে পারেন সে কারণে এ বিধান করা হচ্ছে। বিএমডিসির রেজিস্ট্রার জেডএইচ বসুনিয়া গত শনিবার জানান, বিএমডিসি অ্যাক্ট চলতি অধিবেশনেই উত্থাপিত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পুরনো অ্যাক্ট ও নতুন অ্যাক্টের কপি সংসদে পাঠানোর জন্য চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা কপি করে তা সরবরাহের প্রস্ততি নিয়েছেন।