আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

জনবল সংকট প্রকট, ভর্তি যোগ্য রোগীদের ফেরত পাঠাচ্ছে কিডনী হাসপাতাল

ফয়সাল আকবর:

৪২ টি হেমোডায়ালাইসিস মেশিন নিয়ে  চলছে কিডনি হাসপাতালের রক্ত পরিশোধন সেবা। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। আবার এ ৪২ টি হেমোডায়ালাইসিস মেশিনের বেশ কয়েকটি অধিকাংশসময় থাকে নষ্ট। ফলে শেষ হচ্ছে না রোগীদের অপেক্ষামান তালিকা। এখনো অপেক্ষায় আছে প্রায় ৬০০ এর বেশি রোগী । এ হল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনী ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি বা কিডনি হাসপাতালের অবস্থা। এছাড়া যে কয়টি মেশিন রয়েছে তার পরিচালনার জন্য নেই দক্ষ প্রকৌশলী ।

কিডনি হাসপাতালের জনবল সংকটও ব্যাপক। একজন ডাক্তারকে একই সাথে ওয়ার্ডের দায়িত্ব ও বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়, কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। আবার অধ্যাপকদের রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম দেখাশুনার অতিরিক্ত দায়িত্ব। ফলে ব্যাহত হচ্ছে কিডনি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা।

নেপ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আব্দুল আহাদ জানান, চিকিৎসাসেবা নিয়ে তেমন অভিযোগ নেই। তবে অনেকসময় ডাক্তার ও নার্সদের সাড়া পাওয়া যায় না বলে তিনি জানান।

বর্হিবিভাগে আসা পারভীন আক্তার জানান, আমি কিডনি রোগে অনেকদিন ধরে ভুগছি। বর্হিবিভাগে ডাক্তাররা হাসপাতালে ভর্তি না করে ট্রিটমেন্ট দিয়ে পাঠাই দেয়, ফলে বারবার আসতে হচ্ছে । আর কখন যে রক্ত পরিশোধন করতে পারব সে অপেক্ষায় আছি।

সরেজমিনে জানা যায়, এ হাসপাতালে ইনডোরে প্রতিদিন ১৩-১৪ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া নিউরোলজি ও নেফ্রোলজি এ দু’বর্হিবিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় ২০০ রোগী। সকাল ৮.০০ থেকে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত বর্হিবিভাগে এ সেবা দেয়া হয়। আর বিকাল ২.০০ টা থেকে ইর্মাজেন্সি বিভাগ চালু থাকে। বর্হির্বিভাগ থেকেই অধিকাংশ রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেয়া সম্ভব হয় অথচ প্রতিদিন আসা রোগীর মধ্যে ২০ ভাগ রোগী ভর্তির যোগ্য বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

হাসপাতাল প্রশাসন সুত্র জানায়, ১৯৯২ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের  প্রকল্প আকারে কিডনি হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০১ সালে বর্তমান ভবনে শুধুমাত্র বহির্বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০০৩ সাল থেকে ইনডোর সার্ভিস চালু হয়। হাসপাতালে ১২ টি বিভাগে চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন ১০১ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসক হয়েও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সর্বমোট কর্মকর্তা ও কর্মচারি আছে ৪৩৮ জন আর নার্স আছে ৭৫ জন। এ হাসপাতালের প্রকল্প প্রস্তাবে রোগীদের জন্য ৪০০ আসন বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে ১১৬ টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ভাগ বেড ফ্রি । এছাড়া আছে ৩ টি অপারেশন থিয়েটার ও ১ টি আইসিইউ।
এ বিষয়ে কিডনি হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর মো. ফিরোজ খানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ইউরোলজী বিভাগের প্রধান ডা. জামানুল ইসলাম ভুইয়া জানান- কিডনী চিকিৎসার সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক আবিস্কৃত প্রযুক্তি এই হাসপাতালে ব্যবহৃত হয়। সংখ্যায় কম হলেও এখানে কম খরচে উন্নত সেবা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে । রোগীকে স্বল্প খরচে হেমোডায়ালাইসিস (রক্ত পরিশোধন) সেবা দেয়ার জন্য ৪২ টি আধুনিক মেশিন আছে। জনবলের সংকট থাকলেও হাসপাতাল কতৃপক্ষ সাধ্যানুযায়ী রোগীদের সেবা প্রদানে সচেষ্ট থাকে।

উল্লেখ্য এখন সারা বিশ্বেই কিডনি রোগ নীরব ঘাতকহিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ২ কোটি লোক কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার রোগীর কিডনি সম্পূর্ণরূপে বিকল হয়। গত ১০ বছরে ক্রনিক কিডনি রোগের হার ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে শতকরা ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরে ২৮-৩০ শতাংশে দাঁড়াবে যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ব্যাপার। তাই কিডনি রোগের চিকিৎসাসেবা আরো পর্যাপ্তকরন ও সহজলভ্যকরেন সাধারণ রোগীরা।