এইচ এম দিদার: বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি কুপ্রভাব কতটা মারাত্নক তা অনেকদিন থেকেই অনুভব করছেন। এতদিন অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিককালে এ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন অগ্রসর দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কী নিদারুণ যন্ত্রণা সয়ে বেঁচে আছে এবং ভবিষ্যতে এ দেশকে আরো কত বেশি বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, সে সম্পর্কে হিসাব কষছে।
এ রকম একটি হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে জার্মানওয়াচ নামের একটি এনজিওর প্রতিবেদনে। এর আগে এ সম্পর্কিত জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বিশ্বের অপরাপর ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নামও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে। স্বভাবতই এবারকার কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের নাম সবার মুখে উচ্চারিত হবে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন রোধের জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা হ্রাস করা নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্তে আসেন তার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশসহ ক্ষতির সম্মুখীন দেশগুলোকে।
বাংলাদেশসহ যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে, সেগুলো দরিদ্রও বটে। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা যেসব দেশের তাদের পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার মতো অর্থ এবং প্রযুক্তিগত সামর্থ্য কোনোটাই নেই। প্রতি বছর যে হারে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং যে হারে সম্পদ ও জীবন-জীবিকার ক্ষতি হয় তা সামাল দেওয়ার মতো অবস্থাও নেই এসব দেশের। অথচ এর জন্য বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ মোটেই দায়ী নয়। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জীবাষ্ম জ্বালানি ব্যবহার ও তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে ক্ষতি পোষানোর দায়-দায়িত্বও উন্নত বিশ্বেরই।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ ভূভাগ সমুদ্রের পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। আবার সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গিয়ে বাংলাদেশসহ অনেক দেশের খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি এমনকি মাছ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যেও পরিবর্তন ঘটবে, যার পরিণতিতে অনেক প্রাণ-প্রজাতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সে কারণে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে নিজ অস্তিত্বের প্রয়োজনেই বুলন্দ আওয়াজ তুলতে হবে। জানাতে হবে নিজেদের দাবি। শক্ত রাখতে হবে নিজেদের অবস্থান। জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবশ্যই উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বেশি সুদৃষ্টি আশা করতেই পারে।
কোপেনহেগেন সম্মেলন থেকে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অঙ্গীকার ও লাভ করতেই হবে। কেননা প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সহজলভ্যতা দরিদ্র দেশগুলোর পক্ষে অনেকাংশে অসম্বব হবে।
|