আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

প্রচন্ড গরম ও পানি সংকট, ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে

আইসিডিডিআরবিতে অতিরিক্ত রোগীদের অস্থায়ী দুটি তাবুতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে

এইচ এম দিদার: প্রতিদিন প্রায় পাঁচ-ছয়শ ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ উদরাময় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি-তে। প্রচন্ড গরম, পানি সংকট, দুষিত পানি পান প্রভৃতি কারণে বাড়ছে ডায়ারিয়া, কলেরা সহ নানাবিধ পানিবাহিত রোগ। কিন্তু দেশের চিকিতসা সেবা প্রদান ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় আইসিডিডিআরবি’র মত প্রতিষ্ঠানে আলাদা দুটি তাবু স্থাপনের ফলেও রোগীদের ভীড় কমছে না।

আইসিডিডিআরবির চিকিৎসকেরা জানান আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু । তবে সব বয়সের রোগীরাই  কমবেশী আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই শিশু। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।  আইসিডিডিআরবির কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন আমারহেলথ’কে জানান তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আর প্রচন্ড গরমে মানুষের পানি পানের প্রবণতাও বেড়ে যায়। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াসা তার গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করতে পারছে না বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জানা যায় সরবরাহ ঠিক রাখতে গিয়ে ওয়াসার  পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। এই পানি পান করে লোকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। রাজধানীবাসীর অনেক দিনের অভিযোগ ওয়াসার পাইপ লাইনের সাথে পয়:নিষ্কাশন লাইনের সংযোগ রয়েছে। ফলে পানিতে দুর্ঘন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পানি পানের অনুপযুক্ত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে দুষিত পানি পান করে আক্রান্ত হচ্ছে ডায়ারিয়ার মত বিভিন্ন জটিল পানিবাহিত রোগে। যার দৃষ্টান্ত হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিডিডিআরবির রোগী ভর্তির প্রবণতা।

ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের  পাশাপাশি  ঢাকার বাইরে মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও সাভার থেকেও রোগী আসছে বলে জানান চিকিতসকরা। জানা যায়  বাড়তি রোগীর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতালে নির্মিত দুটি তাঁবুতে প্রায় ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে খুব শীঘ্রই এ হার কমবে বলে আশ্বাস দিতে পারছেনা আইসিডিডিআরবির চিকিতসকরা। এক্ষেত্রে জনগণের সচেতন ভুমিকার কথা তুলে ধরেন।  রোগীকে বেশি করে স্যালাইন খাওয়ানো, বিশুদ্ধ পানি পান, শিশুদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানো প্রভৃতির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রাস্তার পাশে বিক্রি করা ফলের রস, আখের রস, শরবত খাওয়া যাবে না।