আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

হেলথ ওয়াচের রিপোর্ট, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

এইচ এম দিদার/ হাসান শাহরিয়ার

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্রে বেশি বেশি ওষুধ লেখার প্রবণতা ভয়াবহ আকারে বাড়ছে । বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে শতকরা ৩৩টি ব্যবস্থাপত্রে একাধিক ওষুধ দেয়া হয়। ১৯৯৪ সালে এ সংখ্যা ছিল পাঁচ ভাগ । গত ১৫ বছরে এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধের ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুণ । ওষুধের দামের ক্ষেত্রে  ভয়াবহ রকমের অরাজকতা চলছে । বিভিন্ন ওষুধের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ দামের ফারাক কোন কোন ক্ষেত্রে সাড়ে ১৬শ ভাগের বেশি । এছাড়া দেশের প্রায় কোন হাসপাতালেই রোগ অনুযায়ী রোগীদের জন্য সুপারিশকৃত পথ্য (খাবার) দেয়া হয় না । গবেষণা থেকে গেছে, হৃদরোগীদেরকে চর্বি জাতীয়, ডায়াবেটিস রোগীদের শর্করা ও কিডনি রোগীদের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি দেয়া হয় । ফলে স্বাস্থ্যখাতে মানুষের মাথাপিছু গড় ব্যয় বেড়ে যায় এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে । সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে সুশাসনের মারাত্মক অভাব সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ রিপোর্ট ২০০৯ কেমন চলছে স্বাস্থ্যখাতের পরিচালনা শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় । ছয়টি সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন বিষয়ক এ প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. রওনক জাহান সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিবেদনের নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়, দেশের মাত্র ৪৭ ভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৫৫ ভাগ শহুরে ক্লিনিকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পাওয়া যায় । তবে সমীক্ষায় কোথাও তালিকাভুক্ত ২০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পাওয়া যায়নি । মাত্র ছয় ভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ১৫ ভাগ শহুরে ক্লিনিকে এ ধরনের ১৫টি ওষুধ পাওয়া গেছে । একাধিক ওষুধ দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ওষুধের দোকানগুলো । এখানে ৬২ শতাংশ ব্যবস্থাপত্রে তিন বা তার বেশি ওষুধ দেয়া হয় । এরপরের অবস্থানে শহুরে ক্লিনিক (৪৬ ভাগ) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (৩৩ ভাগ)।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বিদ্যমান ৮১ শতাংশ রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র সরকারের অনুমতি ছাড়াই কাজ করছে । ৫০ শতাংশ কেন্দ্র সংগৃহীত রক্তের জন্য বাধ্যতামূলক পাঁচটি সংক্রমণ পরীক্ষা করে না । এসব কেন্দ্রের ৭৪ ভাগ তত্ত্বাবধায়ক নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে না । গবেষণায় পাওয়া গেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীর ভিড়, অবকাঠামো সুবিধার অভাব, রোগীর সঙ্গে ডাক্তার ও অন্যান্য কর্মীর শীতল ও খর্ব আচরণ এবং সেবা পাওয়ার জন্য রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার কারণে হাসপাতালগুলোতে গুণগত সেবার মান ভাল নয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যখাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল (বিএনসি) ও বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল (বিপিসি)-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, দলীয়করণের ফলে অকার্যকর এবং ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে । সমীক্ষার আলোকে সংস্থাটি কিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে প্রতিবেদনে । জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে বিএমডিসি, বিএনসি ও ডিডিএসহ স্বাস্থ্যখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।