আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস পরিস্থিতি উন্নয়নে চতুর্মূখী কার্যক্রম দরকার

জাফর সাদেক শিবলী: দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। আক্রান্তদের ৫০ শতাংশই জানে না যে তারা ডায়াবেটিসে ভুগছে। অধিকাংশ রোগী ওষুধ গ্রহণ করলও ডায়াবেটিস  নিয়ন্ত্রন করতে শিক্ষা গ্রহন করতে আগ্রহী নয়। অথচ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী। ১৪নভেম্বর শনিবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বারডমে আয়োজিত সংবাদ সম্মলেন বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি(বাডাস) এ সংবাদ সম্মলনের আয়োজন কর। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য 'ডায়াবেটিসকে জানুন, একে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সংবাদ সম্মলনে বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ খান বলনে, দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের মাত্র ২৫ শতাংশ চিকিৎসাসেবার আওতাভুক্ত।
১৯৯১ থেকে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে । ২০০৭ থেকে এ দিনটি জাতিসংঘের একটি স্বীকৃতি দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ডায়াবেটিস শিক্ষা এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধ। এ বছর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের শ্লোগান হচ্ছে- ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন হোন এবং এর ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করুন।
অধিকাংশ মানুষ এখনো এই রোগের ব্যাপারে সচেতন নয়। তিনি জানান, দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম স্থানে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাডাসের সহসভাপতি মেজর জেনারেল(অব.) অধ্যাপক এ আর খান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সের মুখ্য পরামর্শক হাজরো মাহতাব, বাডাসের মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, বারডেমের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুন নাহার, বারডেমের দন্ত বিভাগের প্রধান অরূপ রতন চৌধুরী। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান জানান, দেশের ৬০ লাখ আক্রান্তের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫ ভাগ রোগীকে ডায়াবেটিস সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ২০১৫ সাল নাগাদ এই সেবার হার ৫০ ভাগ এবং ২০২০ সাল নাগাদ তা ৭৫ ভাগে উন্নীত করার লক্ষ নিয়ে সমিতি কাজ করে যাচ্ছে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৫০ ভাগ তাদের এ রোগের কথা জানে না। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। সকাল মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সকাল সাড়ে আটটায় পদযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। এ ছাড়া সকাল আটটা থকে ১১টা পর্যন্ত শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে,  প্রেসক্লাব, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর, কারওয়ান বাজার, গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে, মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়। সংবাদ সম্মলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি  অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, দেশে প্রায় ৬০ লাখ ডায়াবেটিক রোগী রয়েছে। এদের মাত্র ২৫ শতাংশের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। যেসব কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে তাতে করে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগীকে সেবার আওতায় আনা যাবে। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে ২৮৫ মিলিয়ন লোকের রয়েছে ডায়াবেটিক। নিম্ন আয় ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে এ রোগের প্রকোপ বেশী। ২ দশকের মধ্য বিশ্ব জুড়ে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৪ কোটিতে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগে থাকে। বাংলাদেশে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা ৩০ লাখ ৮০ হাজার অথবা জনসংখ্যার শতকরা ৮.৪ ভাগ। ২০/২৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ৭০ লাখ ৪০ হাজার বা মোট জনসংখ্যা শতকরা ৬.১ ভাগে দাঁড়াবে। এর ফলে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বিচারে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ স্থান পাবে। অর্থাৎ প্রতিদিন ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। ১৯৫৫ সালে ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। দেশের হাজার হাজার রোগীর সেবা করে যাচ্ছে ইব্রাহিম মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতাল

বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে
-জাফর সাদেক শিবলী

বিশ্বব্যাপী অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসংক্রামক রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগ বাড়ছে মহামারী আকারে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ কোটি। ১৯৮৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ কোটি। অর্থাৎ গত দুই দশকে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৮ গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই মুহূর্তে এ রোগ প্রতিরোধ না করা গেলে আগামী ২০ বছর পর বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ কোটি। ডায়াবেটিসে আক্রান্তের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১০ম। বর্তমানে দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, সচেতনতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান বেড়ে দাঁড়াবে সপ্তমে। বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগের বৃদ্ধির হার উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশে অনেক বেশি। এর অন্যতম প্রধান কারণ উন্নত বিশ্বে নগরায়ণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা চলছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে। কায়িক পরিশ্রম না করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখা, মোটা বা স্থুলকায় হয়ে যাওয়া, অতিমাত্রায় ফাস্টফুড গ্রহণ, কোমল পানীয় পান ও ধূমপান করাসহ বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন না হলে এবং এ রোগ নিয়ন্ত্রণ না করলে নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। সচেতনতা ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে সারাবিশ্বে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ অন্ধত্ব ও পংঙ্গুত্ববরণ ছাড়াও অকালে মৃত্যুবরণ করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগের মৃত্যুর হার সংক্রামক রোগের মৃত্যু হারের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।