আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

সচেতনতা বাড়িয়েছে ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ প্রয়োজন সর্বস্তরের উদ্দ্যোগ

এইচ এম দিদার

ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ শেষ হয়েছে গত ১৬জানুয়ারী। কিন্তু বাস্তবে এ কর্মসূচির মাধ্যমে কতটুকু সফলতা এসেছে তা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ কর্মসূচি তেমন কোনো সফলতা আনেনি। রাজধানীবাসীর অভিমত জানা কালে অনেকেই জানান ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ মুখে শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হয়নি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা আগের মতোই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বলে অনেকের অভিযোগ।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পুরান ঢাকার নয়াবাজার, বাবুবাজার, বংশাল, মিটফোর্ড রোড, মৌলভীবাজার, আগামসি লেন, সুরিটোলা স্কুলের সামনে, আগানবাব দেউড়ি, নয়াবাজার বাসাবাড়ি লেনসহ আশপাশের এলাকায় ময়লা-আবর্জনা আগের মতোই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

 

অন্যদিকে কর্মসুচী আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ কর্মসুচীর মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করাই ছিল এ কর্মসূচির প্রধান কাজ। তবে এটি সত্য যে এ কর্মসূচির কারণে জনগণের মধ্যে অনেকটা সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচিতে ওয়ার্ডভিত্তিক লোকজনের মধ্যে উত্সাহ-উদ্দীপনা ছিল। যা আগামী দিনে তাদের অনেক দূর নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এ বছর এ কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা নগর গড়ি’। ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জাইকা যৌথভাবে প্রচারণার দায়িত্ব নিয়েছিল। এ কর্মসূচিকে সহযোগিতা করছে ওয়াটার এইড, সেইফ, আর্থ ক্লাব ও গ্রামীণফোন এর মত প্রতিষ্ঠান গুলো। যার মাধ্যমে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যা আগামী দিনে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিষ্ঠান কে উতসাহ যোগাবে। বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব, এলাকাভিত্তিক সংগঠন এবং এলাকাবাসীর অংশগ্রহনে পালিত হয় এ কার্যক্রম।

আমাদের সচেতনতার মাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষত বাসাবাড়ির লোকজনকে পচনশীল ও অপচনশীল ময়লা দুটি পাত্রে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।আশা করা যায় এতে এ ধরণের সমস্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে আসবে। কেননা সকল ময়লা খুব সহজে পচনশীল নয়।কিন্তু সব ময়লা একসাথে নির্গমন করা হলে আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপর স্বাভাবিক একটি চাপ বর্তমান থাকে।

অবাক হলেও সত্য যে একটি গবেষনায় জানা যায় ডাস্টবিন থেকে টোকাইরা যেসব মালামাল নিচ্ছে তার সঙ্গে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ব্যবসায়ী জড়িত। এরা প্রতিবছর তিন হাজার কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করছে। তাই বিষয়টি স্পষ্ট যে আমরা প্রায়শই আমাদের নিত্যকার আবর্জনার সাথে বিশাল সম্পদের ও অপচয় করছি। তাই আমাদের সম্পদ রক্ষার মানসিকতাকেও যদি ঐ অর্থে জাগাতে পারি তাহলে হয়তো আমাদের নিত্যকার ময়লার পরিমাণ কিছুটা হলেও কমবে।
 প্রায়ই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলোতে ময়লার গন্ধে অনেক সময় প্রাণ বেরিয়ে যাবার উপক্রম হয়। যেখানে সেখানে বা অনেক সময় সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত জায়গায় ময়লা ফেলা হলে ও দুগন্ধে রাস্তার অনেক দুর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এ ক্ষেত্রে করণীয় হতে পারে আমাদের ময়লা গুলো দিনে না ফেলে সন্ধার পর হতে পারে। অনুরুপ ভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও সকাল নাগাদ তা সম্পন্ন করতে পারবে। আশা করা যায় এতে জন ভোগান্তি কমে যেতে পারে।

যুগপত ভাবে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি ও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া যদি কেউ রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে লোকজনের ভোগান্তি সৃষ্টি করে তাহলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যবস্থা সিটি কর্পোরেশন কে অবিলম্বে কার্যকর করার চিন্তা করতে হবে। প্রয়োজনের নিরিখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মোদ্দা কথা হল ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ একটি সচেতনতা মুলক উদ্যোগ মাত্র। ইচ্ছে করলেই এক সপ্তাহের মাধ্যমেই আমদের এ মেগা সিটি কে আবর্জনামুক্ত করা যাবেনা।তবে এ সচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে একদিন আমরা নিশ্চয় পারবো আমাদের এ প্রিয় নগরীকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে। এ কাজে স্থানীয় জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করা এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই কার্যক্রমের সফলতা পাওয়া যাবে।