আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে

১১তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উত্সব ২০১০ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

ফয়সাল আকবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে হবে। তিনি গত ০৪ মার্চ  জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ১১তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উত্সব ২০১০ উদ্বোধনকালে আরো বলেন, উন্নত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এদেশীয় সংস্কৃতির স্বার্থে খুব শিগগিরই সমন্বিত চলচ্চিত্র নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে এবং তার আলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া এফডিসিকেও আধুনিকায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ শর্টফিল্ম সোসাইটি ৮ দিনব্যাপী এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে। দেশের বিশিষ্ট লেখক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান হাসনাত আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্য ও সংস্কৃতমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, উৎসব পরিচালক রাশেদ এম চৌধুরী ও শর্টফিল্ম সোসাইটির সভাপতি জাহেদুল করিম অঞ্জন। ঘোষণা পাঠ করেন উৎসব কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ এ দেশীয় সংস্কৃতিকে জনগনের কাছে তুলে ধরতে হবে। এছাড়া দেশের ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য এ মাধ্যমকে সত্যভাবে ব্যবহার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছর অন্তত অনুর্ধ ১ ঘণ্টার ৫টি সৃজনশীল স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে ১০ লাখ টাকা সরকারি অনুদানের ঘোষণা দেন। তবে তবে এর মধ্যে অবশ্যই একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র হতে হবে।। শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কথাও তিনি ঘোষণা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে ১১তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উত্সবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙ্গার ওপর নির্মিত 'শেষকৃত্য' শর্টফিল্ম উপভোগ করেন। মুক্ত চলচ্চিত্র, মুক্ত প্রকাশ— এ স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের এ চলচ্চিত্র উত্সব ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ৩০টি দেশের প্রায় ১৬০টি চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শন করা হবে বলে উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এতে বাংলাদেশের ৪০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও রয়েছে। বেগম সুফিয়া কামাল ও শওকত ওসমান মিলনায়তনসহ বেশ কয়েকটি মিলনায়তনে এসব ছবি প্রদর্শন করা হবে। প্রতিদিন দুপুর ১১টা, ৩টা, বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা শতাধিক ছবি প্রদর্শিত হবে। মুল ভেন্যুর পাশাপাশি সহযোগী ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে ধানমন্ডির গ্যেটে ইনস্টিটিউট, জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্টার মিলনায়তন। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও ৭ মার্চ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত হবে চলচ্চিত্র নীতিমালা বিষয়ক একটি জাতীয় সেমিনার ও ৮ মার্চ একই স্থানে আয়োজিত হবে আলমগীর কবির মেমোরিয়াল লেকচার। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি দুই বছর পরপর বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উত্সবের আয়োজন করে আসছে।