আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

সরকারী হস্তক্ষেপে বিএসএমএমইউ’তে ২৯৪ কর্মচারীর চাকুরীচ্যুত হচ্ছে : দলীয় লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে 

১৬.০৩.২০১০

হাসান শাহরিয়ার: বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে চাকুরী হারানোর ভয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়(বিএসএমএমইউ) ও হাসপাতালে জোট সরকারের আমলে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২৯৪ জন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এছাড়াও ছয় মাসে ৩৪ জন কর্মচারীকে সামান্য অজুহাতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে জানা গেছে।এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, ওই শূন্যপদে আওয়ামী সমর্থিত লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী সমর্থিত বেশ কয়েকজন বিএসএমএমইউ’র গাড়ির টিকিট কালেক্টরকে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর গত ৩ মার্চ চাকরি হারানোর দুশ্চিন্তায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোঃ হাফিজ উদ্দিন (৩৫) ভবনের ৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বিএসএমএমইউ’র দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, ২০০৯ সালের জুলাই মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর শতকরা ২০ ভাগ মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা দেয়া হয়। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও বিএসএমএমইউ’র দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কোনো কর্মচারীর বেতন বাড়ানো হয়নি। তারা জানান, ২০০৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ নং— বিএসএমএমইউ/২০০৫/৭১৭৯ তারিখ ১০/০৮/২০০৫ইং অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। কিন্তু এরপর কর্মচারীদের বেতন আর বাড়ানো হয়নি।

কর্মচারীরা জানান, দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা তাদের নিয়মিতকরণ ও বেতন বাড়ানোর আবেদন করলে সেই আবেদনে কোষাধ্যক্ষ লিখেন, নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। আর ভিসি লিখেছেন, বিবেচনা করার অবকাশ নেই, কেননা চাকরি নিয়মিত বা চাকরি পূর্ণবিবেচনা করা প্রক্রিয়াধীন। এদিকে ওই কর্মচারীরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের সামান্য অজুহাতেই এক এক করে কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সুজা মিয়া নামে এক কর্মচারীকে টেবিল মোছা ঠিক হয়নি এ অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়। একজনকে বরখাস্ত করা হয় চেয়ারে বসার কারণে। রাস্তার ড্রেনে বসে প্রস্রাব করার অভিযোগেও এক কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। এমনকি অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি গিয়ে ৩ দিন পর এক কর্মচারী এসে দেখেন তার চাকরি নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর কর্মচারীদের একত্র করে বলেছিলেন, হাসপাতালের একজন কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করা হবে না। এরমধ্যে তিনি সিনিয়র ভিত্তিতে ১০ ভাগ দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়মিত করেন। বিএসএমএমইউ’র সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. এমএ তাহির কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, যারা অনেক দিন থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন তাদের সবাইকে নিয়মিত করা হবে। কিন্তু তথাকথিত তত্ত্বাবধায় সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে সরিয়ে দেয়ার কারণে কর্মচারীদের আর নিয়মিত করা হয়নি।
আরও জানা যায়,  জোট সরকারের আমলে মানবিক দিক বিবেচনা করেই দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়টি সমাধান করার দায়িত্ব ছিল বিএসএমএমইউ’র রেজিস্ট্রার আবদুল গফুরের। কিন্তু তিনি কোনো কাজই করেননি বলে অভিযোগ মিলেছে। এ নিয়োগ সম্পর্কে রেজিস্ট্রার আবদুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আবদুল মজিদ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কর্মচারীদের নিয়োগের ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছিল। ওই কমিটি কিছু অবৈধ নিয়োগ পেয়েছে। তবে তা ২৯৪ জনের বেশি বা কম তা তিনি বলতে পারেননি। কারণ তিনি তাদের কাছ থেকে এখনও কোনো লিখিত প্রমাণ পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ডা:এ এস এম জাকারিয়া আমারহেলথকে বলেন, যে ২৯৪ জনের চাকুরীচ্যুত করার বিষয় উঠেছে তা সত্য। বিগত জোট সরকারের আমলে এই কর্মচারীরা নিয়োগপত্র ছাড়াই চাকুরীতে যোগদান করেছে। প্রতিমাসে ১৫-১৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে এই কর্মচারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত রেজিস্টার কাছে কবে নাগাদ আবার নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের কাছে কাগজপত্র আসলেই আমরা তা জানতে পারবো।