জয়পুরহাটের মেয়ে সারমীন। ৯ বছর বয়সেই বাবা-মা দুজনকে হারিয়ে হয়ে যায় সম্পুর্ণ অসহায়। দারিদ্র্যের কারণে ৮ বছর বয়স থেকেই ময়মনসিংহ শহরের ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম নামক এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে পাঠানো হয় তাকে। তাই তেমন একটা স্বপ্ন দেখার অবকাশ হয়নি তার।
তবে গৃহকর্তা পরিবারের সদস্যদের সাহচর্যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সারমীন। গৃহকর্তা ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম সারমীনকে অনেকটা নিজের সন্তানের মতো মনে করতেন। এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেনি তার পরিবারের সদস্যদেরও। ঐ পরিবারের বড় মেয়ের তত্ত্বাবধানে সারমীন ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে। আচার-ব্যবহার ও কাজে একনিষ্ঠতার মাধ্যামে সে হয়ে ওঠে পরিবারের একজন সদস্য। স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে একজন নার্স হওয়ার।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজকের ১৪ বছরের সারমীন অগ্নিদগ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছে ঢাকা মেড়িকেলের বার্ন ইউনিটে। তার পুরো শরীরে ব্যান্ডেজ। অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। কথা বলার জন্য ঠোঁট নাড়ছে। কিন্তু মুখ দিয়ে কানো শব্দ বেরোচ্ছে না।
বেডের পাশেই বসা ছিল সারমীনের খালা আজিজা বেগম। তার কাছে জানা গেল সারমীনের স্বপ্ন পোড়ার কাহিনী। ডুকরে কেঁদে উঠে তিনি বললেন, বাবা মাইয়াটা বড়ই এতিম, কিন্তু অভাগীর কপালে এই খারাপি ঘটল।
তিনি জানালেন, ২ ডিসেম্বর রাতে গ্যাসের চুলার আগুন পরণের পোশাকে (কামিজ) লেগে সারমীনের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বাসার সদস্যরা যতক্ষণে আগুন নিভায়, ততক্ষণে শরীরের অধিকাংশ অংশ আগুনে ঝলসে যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পরপরই তাকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একদিন পর তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেড়িকেলের বার্ন ইউনিটে। তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখের মতো টাকা খরচ হয়েছে তার চিকিৎসায়। যার পুরোটাই বহন করেছেন গৃহকর্তা ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম। কিন্তু অসংগতির কারণে তার পক্ষে আর এ অর্থ সংকুলান সম্ভব নয়। হতাশ হয়ে চিকিৎসার টাকা সংকুলান করার আর কোনো উপায় না দেখে আজিজা বেগম হতাশ হয়ে পড়েছেন।
ইউনিট কর্তৃপক্ষের সেবা ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের (ডাক্তার, নার্স, স্টাফ) ব্যবহার যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে তিনি জানান। ।
শুধু সারমীন নয়, একই ওয়ার্ডের এক বিত্তশালী পরিবারের একমাত্র অনার্স পড়ুয়া মেয়েরও হুবুহ একই কারণে একই পরিণতি ঘটেছে। সে রাজধানীর বদরুন্নেসা কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ইপা। ছবি তোলার অনুমতি চাওয়াতেই মুখ ঢেকে ফেলে সে। সামান্য একটু অসতর্কতার কারণে ইপার জীবনের স্বপ্নগুলো অন্ধকারে ঢেকে গেছে। থমকে গেছে একটি পরিবারের গতিময়তা। তাদের সামনের দিনগুলো এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।
|