বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি বানিজ্য চলছেসজীব দেব |
চলতি বছর প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে প্রত্যেক কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশ দেয়া হয়। প্রথম দফায় সাড়ে ৩ হাজারের মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি প্রথম দফা তালিকার ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অর্ধেক আসন শূন্য রয়ে গেছে- এমন প্রতিবেদন পড়ে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজে যান। তারা জানতে পেরেছিলেন, এ কলেজটিতে ভর্তিতে ৮ লাখ টাকা লাগে। প্রশাসনিক বিভাগে যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয় ভর্তির আসন আগেই পূরণ হয়ে গেছে। প্রশাসনিক দফতরের একজন তার অভিভাবককে গোপনে ডেকে নিয়ে বলেন, ভর্তির ব্যবস্থা হতে পারে, তবে অতিরিক্ত আড়াই লাখ টাকা লাগবে। আসন শূন্য এবং সিরিয়ালে তার নাম এমনিতেই আসার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেই কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে বলেন, আর টাকা দিলেও ভর্তি করা হবে না। এরপর ওই ছাত্রী ছুটে যান হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে বলা হয়, তাদের কোন আসনই খালি নেই। তবে সংরক্ষিত কোটায় কয়েকটি আসন খালি আছে। রাজধানীর আরও দু;একটি কলেজ থেকেও একই ধরনের কথা বলা হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় সাড়ে তিন হাজারের মেধাতালিকায় শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের ৭৫ আসনের মধ্যে ৬০টি ও হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের ১১০ আসনের মধ্যে ৫৩টি এখনও শূন্য রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, ভর্তি হতে কত টাকা লাগবে- এ নিয়ে রীতিমতো দরকষাকষি চলছে। অভিযোগ শুধু শাহাবুদ্দিন বা হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, বেশ কটি কলেজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরে। অভিভাবকরা এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য টাকার পরিমাণের সর্বোচ্চ সিলিং বেঁধে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি স্বাস্থমন্ত্রীর কানেও পৌঁছেছে। তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জাতীয় মেধাতালিকার ক্রমানুসারে ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ আসন সংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য গোপন করে বাণিজ্য করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া সফল করতে তারা নামিদামি প্রফেসর, সরকারদলীয় প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতা, সাংসদ, এমনকি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন প্রফেসর ডা. খন্দকার মো. শিফায়েতউল্লাহ বলেন, আসন সংখ্যা শূন্য রেখেও আসন পূর্ণ হয়ে গেছে- এমন কথা বলা হচ্ছে। এমন অভিযোগ অনেক অভিভাবকই তাদের কাছে করেছেন। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে কতগুলো আসনে, কোন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে তার তালিকা পাঠাতে বলেছেন। তবে মাত্র ৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যার সবকটি পূর্ণ হয়েছে। আসন শূন্য থাকার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর দ্বিতীয় মেধাতালিকার ক্রমানুসারে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় দফার মেধাতালিকা অনুসারে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। |
Copyright © 2009 |Amarhealth|