বেসরকারী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি: শিক্ষার মানের প্রাধান্য দিতে হবে সবার আগে। |
সজীব দেব: বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এ বছর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এর ফলে কেবল যোগ্য ছাত্রছাত্ররাই ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ হয়েছে যথাসময়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটা উপলব্ধি করেছে যে, অর্থের জোর থাকলেই বেসরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ওপর রয়েছে তারা বিষয়টিতে অখুশী। ভর্তি পরীক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাকে তারা নিজেদের ওপর হস্তক্ষেপ মনে করেছে। এখন তারা শিক্ষার্থীদের কাছে মাত্রাতিরিক্ত বেতন ও অন্যান্য ফি দাবি করছেন। যদিও সরকার বলেছিল, এমনটি তারা ঘটতে দেবে না। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে সে নিয়ম এখনও প্রযোজ্য হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে সরকার পরীক্ষা গ্রহণে নিজেদের যুক্ত করে প্রথম কাজটি সম্পন্ন করেছে। দ্বিতীয় কাজ অর্থাৎ শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত হওয়া ঠেকাতে হলে ভর্তির ফি নির্ধারণ করতেই হবে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের চিকিৎসার সুখ্যাতি রয়েছে। তাই এই সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হলে মেডিকেল শিক্ষার মান চাল-ডাল-তেলের মতো বাণিজ্য পরিচালনা করতে দেওয়া অনুচিত। সরকার এ ক্ষেত্রে তার অবস্থান কঠোর করবে, এটাই প্রত্যাশা। দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সংখ্যা বাড়ছে। এগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা এবং শিক্ষকসহ দক্ষ জনবল যাতে নিশ্চিত করা হয় তার প্রতিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি থাকতে হবে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্র্রে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তদারকির অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতি-অনিয়মও সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধান না করতে পারলে মেডিকেল শিক্ষা নিয়ে মহৎ পরিকল্পনা ভেস্তেও যেতে পারে। |
Copyright © 2009 |Amarhealth|