বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রদূত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশ শাসন আমলে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি দেশের শীর্ষ মেডিক্যাল কলেজ। রাজধানী ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর পাশে বকশীবাজারে অবস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজটি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ। কলেজটিতে প্রতি বছর এমবিবিএস কোর্সে ১৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। কলেজের ছাত্রদের জন্য ডা. ফজলে রাব্বি হল নামে একটি বৃহৎ হল এবং ছাত্রীদের ডা. মিলন হল নামে একটি ছাত্রী হল রয়েছে। এই কলেজটিরই অধিনে রয়েছে বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ হাসপাতাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
এক নজরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ
প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৬ সাল
ধরন: সরকারি
শিক্ষার্থী: ১০৫০
অবস্থান: বকশিবাজার, ঢাকা
আয়তন: ২৫ একর
ডাক নাম: ডিএমসি
অধ্যক্ষ: প্রফেসর কাজী দ্বীন মুহাম্মদ
ওয়েবসাইট: www.dmc.edu.bd
ফোন: ৮৬২৬৮১২-৬
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাস :
১৯০৫ সালে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ-আসাম প্রদেশের সচিবালয় হিসেবে একটি ভবন তৈরি হয়েছিল। ১৯২১ সালে ঢাবির কলা অনুষদসহ বেশকিছু অংশ এই ভবনে চলে আসে। ১৯৩৯ সালে পূর্ববঙ্গে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা করা হয়। কিন্তু সময় শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঢাবির ওই ভবনটির চেহারা পাল্টে যায়। তখন থেকে ভবনটি আমেরিকান সৈন্যরা আমেরিকান বেস হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। তবে যুদ্ধশেষে মার্কিনীরা চলে গেলেও থেকে যায় তাদের হাসপাতালটি। ১৯৪৫ সালের পর মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাবটি আলোর মুখ দেখতে পায়। এর প্রেক্ষিতে ১০ জুলাই ১৯৪৬ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পথ চলতে শুরু করে। সেই সময়ের ১০০ শয্যার হাসপাতালটি আজকের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল। সূচনা লগ্নে বিশাল স্থানটির দায়িত্ব দেয়া হয় স্থাপনা কমিটির প্রধান ডব্লিউ জে ভারজিনের ওপর। ১৯৪৬ সালের শুরুতেই গঠিত এই কলেজে সব বর্ষেই শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। এনাটমি ও ফিজিওথেরাপি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশাল মেডিক্যাল কলেজটির সব কার্যক্রম শুরু হয়। আজকাল অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্নের স্থান এটি। আর এই স্বপ্নের রাজ্যটি ২৫ একর জমিতে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে এর ২৮টি বিভাগ। প্রতিবছর ১৮০ জন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হন। গত ১০ জুলাই জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে কলেজটির ৬৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। সাহিত্য ও নাট্যচর্চাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজে রয়েছে ডিবেট ক্লাব, খেলাধুলার ক্লাব, সাহিত্য ক্লাব, নাট্য ক্লাবসহ বেশকিছু ক্লাব। দেশের সর্বস-রের মানুষ এই কলেজের হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা গ্রহণের জন্য। আর সেই জন্য এই কলেজের অধীনে আছেন কয়েকশ ডাক্তার। ডা. মাহ্বুবুল আলম, শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি, শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ বেশ কজন শহীদ এই কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। |