সব মেডিকেল কলেজ বিএসএমএমইউর অধিভুক্ত হবে, চালু হচ্ছে রেসিডেন্ট স্নাতকোত্তর কোর্স কোয়ান্টাম দুঃসময়ের জন্য রক্ত সঞ্চয় করে জীবন বাঁচাতে রক্ত নিয়ে পাশে আছে সন্ধানী

উদ্বোধনের প্রহর গুনছে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সজীব দেব

রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হলেও চালু হচ্ছে না দিনাজপুরবাসীর দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসল দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের টানাপোড়েনের কারণে বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের উদ্বোধনের দিনক্ষন। দিনাজপুর শহরের সদর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের অংশে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ঘেঁষে ১০ একর জায়গা জুড়ে আধুনিক স্থাপত্যকলায় নির্মিত হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। দেশের উত্তরাঞ্চলে চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে এই হাসপাতালে সবচেয়ে প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে জটিল ব্যাধি ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই হাসপাতালের “অনকোলজি” বিভাগ সর্বাধুনিক।

হাসপাতালে রয়েছে ২৭টি ইউনিট এবং ২৪টি কেবিন । সরকারি বিধান অনুযায়ী পেয়িং ওয়ার্ড ২০ শতাংশ, অন্যান্য কেবিন রয়েছে ১০ শতাংশ। চিকিৎসা মানের দিকে গুরত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, মহিলা, গাইনি, চক্ষু, ইএনটি, দাঁত, স্কিন, ক্যান্সার, কার্ডিওলোজি বিভাগের ওয়ার্ড। আরো রয়েছে সর্বাধুনিক প্যাথলজি, এনজিওগ্রাম, ইসিজি, সিটিস্ক্যান, আলট্রাসনোগ্রাম, ক্যান্সারের অনকলজি, সার্জিক্যাল, আধুনিক ব্লাড ব্যাংকসহ রোগ নিরূপণ ও চিকিৎসা সম্বলিত যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ। প্রয়োজনীয় এবং সর্বাধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো হয়েছে ১৬টি অপারেশন থিয়েটার। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামীতে রোগকেন্দ্রিক ইউনিট এবং অপারেশন থিয়েটাররের সংখ্যা বাড়ানোর সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে পরিচালক উপ ও সহকারী পরিচালকসহ কনসালটেন্ট, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মেডিক্যাল অফিসার, সার্জন, টেকনিশিয়ান, নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে হাসপাতালের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২২৫ জনকে। সব মিলিয়ে হাসপাতালের বার্ষিক ব্যয় সরকারিভাবে অনুমোদন পেয়েছে ৯ কোটি টাকা।

৬ মাস যাবৎ নিয়োগকৃত চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ২২৫ জনের বেতন বন্ধ রয়েছে শুধুমাত্র হাসপাতালটি চালু না হওয়ার কারনে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব প্রাপ্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম জানান, হাতে সময় পেয়েছি খুব অল্প। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল চালুর সব আয়োজন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দুইটি ডরমেটরি প্রস্তুত আছে। সেখানে কর্মরত কিছু চিকিৎসক ও ইন্টার্নী চিকিৎসকদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে আরও সাত একর জায়গা চেয়েছি। জমি পাওয়া গেলেই চিকিৎসক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য পৃথক কোয়ার্টার যত শিগগির তৈরি করা হবে। ইকবালুর রহিম আরও জানান, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের অনেক কোয়ার্টার রয়েছে, যা দিয়ে বর্তমান চাহিদা অনেকটা মিটিয়ে নেয়া যাবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সন্দেহ-সংশয়ের কিছু নেই। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ চালু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই গত ২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তড়িঘড়ি করে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধন করেন। এছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রসত্মর স্থাপন করে কোন কাজ আরম্ভ করতে পারেননি। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার ভিত্তিপ্রস্তর ফলকটি সরিয়ে ফেলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন মন্ত্রী বেগম খুরশীদ জাহান হক ২০০৪ সালের আগষ্টে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ফলে নামফলকের রাজনীতিতে পরিণত হয় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।




আমারহেলথ গেষ্টবুকে

আপনি আপনার মতামত,পরামর্শ.অভিযোগ আমাদের জানান।