নাজিবুল্লাহ: গত ১০ জুলাই ২০০৯, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ৬৪ বছরে পা দিয়েছে। দেশের চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এই কলেজের সঙ্গে যুক্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দেশের সর্ব বৃহৎ হাসপাতাল। সেই প্রেক্ষিতে এই কলেজের ছয় দশক পূর্ণ করা বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য ঘটনা। ১৯০৫ সালে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ-আসাম প্রদেশের সচিবালয় হিসেবে বক্শিবাজারে একটি ভবন তৈরি হয়েছিল। পরে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কলা অনুষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু অংশ এই ভবনে চলে আসে। ১৯৩৯ সালে তৎকালীন সরকার পূর্ববঙ্গে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা করে। কিন্তু সময় শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ওই ভবনটির চেহারা পাল্টে যায়। তখন থেকে ভবনটি আমেরিকান সৈন্যরা আমেরিকান বেস হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। তবে যুদ্ধশেষে মার্কিনীরা চলে গেলেও থেকে যায় তাদের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি। ১৯৪৫ সালের পর মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবটি আলোর মুখ দেখতে পায়। সেই প্রেক্ষিতে ১০ জুলাই ১৯৪৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ পথ চলতে শুরু করে। প্রথমে ১০০শয্যা দিয়ে হাসপাতালটি যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়ের ১০০ শয্যার হাসপাতালটি আজকের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল।
যাত্রা লগ্নে বিশাল প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব দেয়া হয় সংস্থাপনা কমিটির প্রধান ডব্লিউ জে ভারজিনের ওপর। ১৯৪৬ সালের শুরুতেই নব প্রতিষ্ঠিত এই কলেজে সব বর্ষেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এনাটমি ও ফিজিওথেরাপি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে এই বিশাল মেডিকেল কলেজটির সব কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে অনেক মেডিকেল শিক্ষার্থীর স্বপ্নের স্থান এটি। আর এই স্বপ্নের রাজ্যটি ২৫ একর জমিতে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে এর ২৮টি বিভাগ রয়েছে। প্রতিবছর এখানে ১৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন।
এই কলেজ মূলত অনেক বছরের ইতিহাস বহন করে আসছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ অভূত্থান এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সহ অসংখ্য ঘটনা। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হয়েছে ডা: মিলন। সাহিত্য ও নাট্যচর্চাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজে রয়েছে ডিবেট ক্লাব, খেলাধুলার ক্লাব, সাহিত্য ক্লাব, নাট্য ক্লাবসহ বেশকিছু ক্লাব। বাংলাদেশে সর্বস-রের মানুষ এই কলেজের হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আসেন । আর সেই জন্য এই কলেজের অধীনে আছেন কয়েকশ ডাক্তার। ডা. মাহ্বুবুল আলম, শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি, শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ বেশ কজন শহীদ এই কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। শত ইতিহাসের এই কলেজটি আজ ষাটের ঘরে পা দেয়া দেশবাসী সহ এই কলেজের বর্তমান ও অতীতের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য গৌরব ও আনন্দের। ৬৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী গত ১০ জুলাই জমকালো আয়োজনেই পালন করেছে কলেজটির ছাত্র-শিক্ষকসহ সবাই। আনন্দঘন সেই মুহূর্তে বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. কাজী দিন মোহাম্মদ তাঁর অভিব্যাক্তি জানিয়ে বললেন, আমি তেষট্টি বছরের গৌরবোজ্জ্বল এই মুহূর্তের সঙ্গে জড়িত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
বর্তমানে কলেজের বেশ কিছু একাডেমিক সমস্যায় ভুগছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে তারা সমস্যা গুলো সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং ইতোমধ্যে নতুন একাডেমী ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এই কলেজের শিক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখতে তারা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করছেন।
তথ্য সরবরাহ : ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্র্তৃপক্ষ
|