জাফর সাদেক শিবলী: আমারহেলথ (০৫ মার্চ, শনিবার): দেশের সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগী মৃত্যুর হার প্রতি বছরই বাড়ছে। গত দু'বছরে ৬টি বিশেষায়িত হাসপাতালে এ হার বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। জরুরি চিকিৎসার অপ্রতুলতা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা সামগ্রির সঙ্কট এবং চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
হেলথ বুলেটিন ২০১০ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে দেশের ৭টি বিশেষায়িত হাসপাতালের ৬টিতে রোগী ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১শ' ৩ জনের। যার হার ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২০০৮ সালে এসব হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রোগী ভর্তি হয়েছিল ৭২ হাজার ৭শ ৫৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৩ হাজার ৬শ' ৯৬ জন। যার হার ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০০৯ সালে রোগী মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সময় মতো জরুরি সেবা না পাওয়ার কারণে এমনটি ঘটছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯ সালে দেশের বিশেষায়িত ৬টি হাসপাতালের মধ্যে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ২ হাজার ৬শ' ৮০ জন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৯শ' ৫২ জন, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ১শ' ৭০ জন, জাতীয় কিডনী হাসপাতালে ২শ' ৬ জন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ২৪ জন এবং জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে মারা গেছে ৭১ জন।
এর মধ্যে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। জানা গেছে, এ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা কার্যক্রম চরম অনিয়মের বেড়াজালে ছেয়ে গেছে। ফলে হাসপাতাল জুড়ে চলছে চরম অস্থিরতা। রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে।
|