একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের আশীর্বাদে জীবন ও জগতের উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও রক্তের কোন বিকল্প আজও আবিস্কৃত হয়নি। রক্তের বিকল্প শুধু রক্তই, যা টাকার পরিমাপে মূল্যায়ন অসম্ভব। প্রতিনিয়ত রক্তের অভাবে ঝরে যায় হাজারো প্রাণ। তাই রক্তের প্রয়োজন মানেই ঝুঁকিপূর্ণ জীবন। আর অধিকাংশ মুমূর্ষুর জন্য রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ বাংলাদেশের সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল।
"একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন "
এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে বাঁধন নামক এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঁধন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ হাসনাইন আমার হেলথ প্রতিবেদককে বলেন, বাঁধনের লক্ষ্য হচ্ছে সবাইকে রক্তের গ্রুপ জানানো এবং সেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করা। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেচ্ছায় রক্তদানের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং যে সব স্থানে রক্তের চাহিদা বেশি সেখানে আমাদের কার্যক্রম সমপ্রসারিত করা। ভালো ও নি:স্বার্থ কাজে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনের মাধ্যমে বাঁধনকে বৃহৎ সংগঠনে পরিণত করা।
এক নজরে বাঁধন
প্রতিষ্ঠাকাল: ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৭
রেজিঃ নং: ঢ-০৬১৫২
মূলমন্ত্র: একের রক্ত অন্যের জীবন
রক্তই হোক আত্মার বাঁধন
ক্ষেত্র: বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতকোত্তর কলেজ সমূহ।
বৈশিষ্ট্য: ছাত্র-ছাত্রী দ্বারা পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
বাঁধন এর উদ্দেশ্য:
* স্বেচ্ছায় রক্তদানকে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলা।
* বাংলাদেশের মোট রক্তের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা।
* দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতকোত্তর কলেজ বাঁধন এর কার্যক্রম সম্প্রসারন করা।
আমরা স্বপ্ন দেখি সে'দিনের, যে'দিন.....
* বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তার নিজ রক্তের গ্রুপ জানবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবে।
* রক্তস্নাত এই বাংলায় রক্তের অভাবে আর একটি জীবন প্রদীপও যেন নিভে না যায়।
বাঁধন এর কার্যক্রম:
* নিজে রক্ত দেয়া ও অন্যকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণ।
* বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা।
* মুমূর্ষুর প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
* স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ মূলক অনুষ্ঠান।
* স্বল্পমূল্যে (হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-বি, টাইফয়েড, টিটেনাস ইত্যাদি) টিকাদান কর্মসূচী।
* জাতীয় দূর্যোগ মূহুর্তে (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মঙ্গা ইত্যাদি) বিপন্ন মানবতার সেবায় কাজ করা।
সংগৃহীত রক্তের পরিমাণ: ৪৩,০০০ ব্যাগ প্রায় (২০০৮)
আর্থিক যোগান:
* বাঁধন কর্মীদের চাঁদা।
* সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আর্থিক সহায়তা।
* উপদেষ্টাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদান।
সদস্য স্তর:
* রক্তদাতা
* সাধারণ সদস্য
* কার্যকরী সদস্য
* সম্মানিত সদস্য
* বিশেষ সদস্য
* উপদেষ্টা মন্ডলী
সংগঠনের স্তর:
কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ
জোনাল কার্যকরী পরিষদ
ইউনিট কার্যকরী পরিষদ
বাঁধন এর বিস্তৃতি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোন-এ ১৬টি ইউনিট
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় জোন-এ ৭টি ইউনিট
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জোন-এ ১২টি ইউনিট
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জোন-এ ১১টি ইউনিট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জোন-এ ১৫টি ইউনিট। এছাড়াও দেশের মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯টি কলেজে মোট ৭৫টি ইউনিট নিয়ে সারা দেশে বাঁধন তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বাঁধন, কেন্দ্রীয় পরিষদ (২০০৯-১০)
সভাপতি: জাহিদ হাসান, বুয়েট। ফোন - ০১৯১২০৮২৯১৯
সাধারণ সম্পাদক: প্রশান্ত কুমার দেবনাথ, জা.বি । ফোন - ০১৭১২১৮০২৪৬
ঠিকানা:
বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদ
টি.এস.সি.(নীচতলা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা-১০০০।
ফোন - ০২-৮৬২৯০৪২ (সন্ধ্যা থেকে রাত ৯.৩০ টা পর্যন্ত)
ওয়েব সাইট: www.badhan.org |