আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

বিশেষ সাক্ষাতকার :

বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা : নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা জরুরী - অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী

মাদকাসক্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। ধূমপান এর জন্য দায়ী। গবেষণায় দেখা যায় দেশে মাদকাসক্তের ৫৮ ভাগই ধূমপায়ী। এর  মধ্যে ৪৪ ভাগই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ইভটিজিং এর কারণে ২৪ ছাত্রীর মৃত্যুর পেছনে মাদকাসক্তি অন্যতম দায়ী। বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলা হলেও সঠিক পরিসংখ্যান সরকার কিংবা এনজিওগুলোর কারো কাছেই নেই। এছাড়া সরকারি ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক গ্রহনের সংখ্যা বাড়ছে আশংকাজনক হারে। অথচ এমন অবস্থায়ও গত দেড় বছর যাবৎ মাদক নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কমিটির মিটিং  হচ্ছে না ।আমার হেলথের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ সংগঠন মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমার হেলথ প্রতিবেদক নাজিবুল্লাহ।


আমার হেলথ: দেশে মাদকাসক্তদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলুন।
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: মাদকাসক্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। ধূমপান এর জন্য দায়ী। গবেষণায় দেখা যায় দেশে মাদকাসক্তের ৫৮ ভাগই ধূমপায়ী। এর  মধ্যে ৪৪ ভাগই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ইভটিজিং এর কারণে ২৪ ছাত্রীর মৃত্যুর পেছনে মাদকাসক্তি অন্যতম দায়ী। মাদক এখন সহজলভ্য পন্যে পরিনত হয়েছে। ফেন্সিডিল, হেরোইন ও গাজা এখন পাশের পানের দোকানেও পাওয়া যায়। অথচ পুলিশ জানে কারা এর সাথে জড়িত। পুলিশ নিজ উদ্যোগ কোন অভিযান চালায় না। পুলিশ ইচ্ছা করলেই তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারে। এছাড়া সরকারি ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক গ্রহনের সংখ্যা বাড়ছে আশংকাজনক হারে। হলে কিংবা বাসায় বসেই তারা মাদকাসক্ত হচ্ছে।

 

আমার হেলথ: দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা কত?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলা হলেও সঠিক পরিসংখ্যান সরকার কিংবা এনজিওগুলোর কারো কাছেই নেই। এক সময় সরকারি ভাবে দেশে মাদাকাসক্তের সংখ্যা বলা হতো ২০ লাখ। বেসরকারী ভাবে বলা হতো ৫০ লাখ। এসব তথ্যের সবগুলোই অনুমান ভিত্তিক।

 

আমার হেলথ: প্রতি বছর কত শতাংশ মাদকাসক্ত হচ্ছে? এর মধ্যে কত শতাংশ নারী?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: প্রতি বছর ৫-৬শতাংশ অতিরিক্ত মাদকাসক্ত হচ্ছে। এদের ২০শতাংশ নারী। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের একটি বৃহদাংশ এখন আসক্তির দিকে এগুচ্ছে।

 

আমার হেলথ: মাদকাসক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ কি?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: পারিবারিক সম্পর্ক দূর্বল হওয়া, ব্যক্তিগত জীবনে হতাশা, প্রেমে ব্যর্থতা এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়া থেকে মাদকাসক্তি শুরু হয়। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন না করার ফলেই  মাদকাসক্তদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারিত না হওয়ার ফলে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোড়ালো  হচ্ছে না। গত দেড় বছর যাবৎ মাদক নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কমিটির মিটিং হচ্ছে না।

 

আমার হেলথ: মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম কেন জোড়ালো হচ্ছে না?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আছে কিন্তু ঢাল তলোয়ার নেই। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। তাদেরকে আর্মস ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। তাদের কোন ফোর্স নেই। নেই কোন গাড়ি। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিনে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শক্তিশালী হচ্ছে না।

 

আমার হেলথ: মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন ?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে সরকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু সরকারের উদ্যোগ মোটেও যথেষ্ট নয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আর্মস ব্যাবহারের  সুযোগ, ফোর্স গঠন এবং গাড়ি দিয়ে  শক্তিশালী করা জরুরী। নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান অপরিহার্য। দেশে যেন মাদক প্রবেশ করতে না পারে  সে জন্য বর্ডার গার্ডকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া সরকারের উচিত এক্ষেত্রে এনজিও গুলোকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা। 

 

আমার হেলথ: মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে কি করা উচিত ?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি পাড়া ও ওয়ার্ডে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করা আবশ্যক। প্রতিটি পরিবার হবে যার সদস্য। ওয়ার্ড কমিশনার ও মেম্বারগণ এর নেতৃত্ব দিবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরী।

 

আমার হেলথ: মাদক নিয়ন্ত্রণে মানস কি ভূমিকা রাখছে ?
অধ্যাপক ডা: অরূপরতন চৌধুরী: গত ২৪ বছর যাবৎ মানস মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন করিয়েছি। কিন্তু বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণের সাহায্য চাই। আমাদের কার্যক্রম বর্তমানে চলছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত  থাকবে।