আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

স্বাক্ষাৎকার

মাদক নির্মূলে শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট চালু হচ্ছে - অধিদপ্তর মহাপরিচালক

জাফর সাদেক শিবলী: সারাদেশের মাদক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ জনগোষ্ঠি মাদকাসক্ত। এজন্য মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরকে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়  করা হয়েছে। মাদক সমস্যা নির্মূলে শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট চালু করা হচ্ছে। আমারহেলথ-এর সাথে সাক্ষাৎকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম.এ.এন সিদ্দিক এ সব কথা বলেন।

মাদক নির্মূলে সরকারের চলমান কর্মসূচী ও ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের সাক্ষাৎকারটি নিন্মে তুলে ধরা হলো।

আমারহেলথ: দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। মাদক নির্মূলে সরকারের কি নতুন কোন কর্মসূচী গ্রহন করেছে?
এম.এ.এন সিদ্দিক: দেশের বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ জনগোষ্ঠি মাদকাসক্ত। দেশে যে সকল মাদক দ্রব্য পাওয়া যায় সেগুলো পার্শ্ববতী দেশ দিয়ে প্রবেশ করছে। পার্শ্ববতী দেশ ভারত, মায়ানমার আমাদের অত্র অঞ্চলের মাদক সমস্যার জন্য সবচে বড় দায়ী। বড় এ দু’দেশের মাদক সমস্যাটা আজকের নয়। আমাদের দেশের জনগন ইলিশ মাছ ও ভালো মানের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে চোরাই পথে ভারতে গিয়ে বিক্রি করে তৃতীয় শ্রেনীর কিছু পণ্য নিয়ে দেশে প্রবেশ করে। দেশপ্রেম না থাকলে এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। কোস্টগার্ড, বিডিআর কতক্ষণ তাদের পাহারা দিবে। তবে আশার দিক হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভারত সফরে মাদক নিয়ে বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। ভারতের সাথে এ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও হয়েছে। মাদক নিয়ে আঞ্চলিক শক্তি প্রয়োগ দরকার বলেই এ নিয়ে সার্কে আলোচনা হচ্ছে।

আমারহেলথ: মাদক চোরাচালান নির্মূলে একটি বাহিনী গড়ে তোলার কথা চলছিল, সেটা এখন কতদূর?
এম.এ.এন সিদ্দিক: আমাদের নিজস্ব কোন বাহিনী নেই। যার কারণে সমস্যা সেভাবে সমাধান হচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বমোট জনবল মাত্র ১২৭৭ জন। তাহলে কী করে সম্ভব সেটা। তবে সরকারের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আমরা শীঘ্রই জনবল দ্বিগুন করে ফেলব।

আমারহেলথ: সারাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা কী?
এম.এ.এন সিদ্দিক: বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলাতে ২৫টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপঅঞ্চল আছে এবং ৫৯৮টি উপজেলায় মাত্র ১০৪টি অফিস রয়েছে। শীঘ্রই ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রতিটি জেলাতে ১টি করে অফিস স্থাপন করা হবে। আর এতে সফল হলে উপজেলার দিকে আমাদের নজর যাবে। এজন্য বলা যায়, গত ২/৩ বছরে এখানে যতটুকু কাজ করা সম্ভব হয়নি সেটা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২/৩মাসে। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। মাদক সমস্যা নির্মূলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৯ জুলাই মেজিস্ট্রেটদের নিয়ে এ ব্যাপারে ট্রেনিং অনুষ্ঠিত হবে। যাতে করে সাথে সাথে একটা শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়। এতে করে নূন্যতম ২ বছর ও সবোচ্চ মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকতে পারে।

আমারহেলথ: মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পরিবার বা সমাজের ভূমিকা কতটুকু?
এম.এ.এন সিদ্দিক: দেশে বর্তমানে মাদকাসক্তের শতকরা ৯০ ভাগ যুব সমাজ। এখন মেয়েরাও এতে জড়িয়ে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য দরকার পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা। সন্তানের সাথে খোলামেলা কথা বলা। তাদের ভালো লাগা মন্দ লাগাকে প্রাধান্য দেয়া। রক্তসম্পর্কীয় আত্নীয় স্বজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগও মাদক সমস্যা নির্মূল করতে পারে।