
স্বাস্থ্যখাতে যে সকল ডা. বেশ সুনামের সাথে কাজ করে আসছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস। বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমুনোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলাপচারিতার মাধ্যমে তিনি আমারহেলথের কাছে তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক চিত্র। তার সাথে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন আমারহেলথের প্রতিবেদক জাফর সাদেক শিবলী।
প্রতিবেদনটির চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো।
আমারহেলথ: স্বাস্থ্যসেবার বতর্মান যে প্রেক্ষাপট সে আলোকে কিছু বলবেন কি?
গোবিন্দ চন্দ্র দাস: স্বাধীনতা প্রাপ্তির চার দশকে বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত এবং আধুনিক হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো যেমন গড়ে উঠেছে, তেমনি গড়ে উঠেছে বহুসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। দিন দিন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই আমরা স্বাস্থ্যখাতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছি। সে প্রেক্ষাপটের উপর নজর দিয়ে বলা যায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মান অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সন্তোষজনক। যেমন উদাহরন হিসেবে আমরা যকৃত প্রতিস্হাপন সহ আরো অন্যান্য বিষয়গুলোকে তুলে আনতে পারি।
আমারহেলথ: শহরাঞ্চলের মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যসেবা লাভ করছে গ্রামাঞ্চলে সেভাবে পাচ্ছেনা। প্রায়ই আমরা শুনি যে সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। ব্যাপারটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
গোবিন্দ চন্দ্র দাস: গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, জরুরিভিত্তিতে শূন্য পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা এবং সর্বোপরি বিদ্যমান অনিয়ম ও অব্যবস্থার অবসান ঘটানো আবশ্যক। আমাদের দেশে অনিয়ম অনেকটাই মজ্জাগত। তাই উক্ত সমস্যা দূরীকরণে সরকারকে আন্তরিক আন্তরিক হওয়া দরকার। অবস্হার মৌলিক পরিবর্তনে কঠোর ও বাস্তবানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী। তবেই গ্রামঞ্চল ও শহরাঞ্চলের মধ্যে একটা ভারসাম্য বিরাজ করবে।
আমারহেলথ: স্বাস্থ্যসেবার মানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের কমিউনিটি হাসপাতাল কিভাবে ভূমিকা রাখবে বলে আপনার বিশ্বাস?
গোবিন্দ চন্দ্র দাস: ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি যে দেশের বিভিন্নাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক তাদের সক্রিয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি ঘোষিত ১৩ হাজার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ৩২ হাজার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি নিয়োগ প্রক্রিয়া নি:সন্দেহে স্বাস্হ্যসেবার মানকে আরো বাড়িয়ে দিবে।
আমারহেলথ: এবারের একুশে বইমেলায় স্বাস্থ্যবিষয়ক অনেক বই ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য বইগুলোকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
গোবিন্দ চন্দ্র দাস: এটা সত্য যে বইমেলায় প্রতিবছর স্বাস্থ্যবিষয়ক নতুন পুরাতন বই রের হয়। কোন একটা বিশেষ রোগ সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই জানা দরকার। যেমন উদাহরনসরুপ বলা যায় যে যেমন- অ্যালার্জি, এই রোগটা কেন হয় বা কিভাবে এই রোগ থেকে বাঁচা যায়, এককথায় সচেতনতা সৃষ্টিতে বই কেনা বই পড়া খুবই জরুরী।
আমারহেলথ: স্বাস্হ্যবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের সর্বস্তরের মানুষের জন্য আমারহেলথের ভূমিকাকে কিভাবে দেখছেন?
গোবিন্দ চন্দ্র দাস: সারাদেশব্যাপী সুনাগরিক গড়ার জন্য আমাদের দরকার সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষ। আর উন্নয়ন গ্রামকে বাদ দিয়ে কখনোই সম্ভব নয়। সেজন্য আমারহেলথের যাবতীয় কার্যকমকে আরো সক্রিয় ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।
আমারহেলথ: সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আমারহেলথকে আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
গোবিন্দ চন্দ্র দাস: ধন্যবাদ আপনাকেও। |