পৃথিবীতে অন্ধ, বধির, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, স্মৃতিভ্রষ্টতা প্রভৃতি শব্দগুলোর অস্তিত্ব আর থাকছে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে এ জাতীয় সব দুরারোগ্য ব্যাধি যেন চির বিদায় হতে চলেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের একদল গবেষকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটিই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আবিষ্কৃত নতুন এই পদ্ধতিটির নাম জিন থেরাপি্।
অভাবনীয় এক সফল অধ্যায়ের সূচনা হল চিকিৎসা ক্ষেত্রে, স্বপ্নের সোনার হরিণ যেন ধরা দিল বিজ্ঞানীদের হাতে। পৃথিবীতে অন্ধ, বধির, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, স্মৃতিভ্রষ্টতা শব্দগুলোর অস্তিত্ব আর যেন থাকছে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে এ জাতীয় সব দুরারোগ্য ব্যাধি চিরবিদায় হতে চলেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের একদল গবেষকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটিই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফ্রান্সের প্যারিসের ডেসকার্টেস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজিস্ট প্যাট্রিক হিউবার্গ ও তার সহযোগীরা ৭ বছর বয়সী দুটি বালকের ওপর জিন থেরাপি প্রয়োগ করে আশান্বিত এক ফলাফল লাভ করেছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ পদ্ধতিতে জিন থেরাপি প্রয়োগে পৃথিবীতে এটাই প্রথম সাফল্য। গবেষকরা তাদের এ গবেষণায় এইচআইভি ভাইরাসের একটি পরিবর্তিত রূপ ব্যবহার করেছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এড্রিনো-লিউকো-ডাইস্ট্রফি বা সংক্ষেপে এএলডি একটি ঘাতক ব্যাধি, যা বিশেষ করে ৬ থেকে ৮ বছরের ছেলেদের আক্রমণ করে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে খুবই অল্প সময়ে ব্যাধিটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। এএলডি হল এমন এক ধরনের রোগ যা মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের সঙ্গে শরীরের অন্য অঙ্গগুলোর স্নায়বীয় যোগাযোগ নষ্ট হয়ে যায় এবং রোগী ক্রমে অন্ধ, বধির, স্মৃতিভ্রষ্ট, পক্ষাঘাত রোগগ্রস্ত হয়, এমনকি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার চেয়েও মারাত্মক দুঃসংবাদ হল, আক্রান্ত ব্যক্তির পরবর্তী প্রজন্মকেও এ রোগ বংশগতভাবে বহন করতে হয়। মানবদেহের ক্রোমোসোমের একটি ত্রুটিপূর্ণ চক্রের কারণেই মূলত এ ঘাতক ব্যাধির উৎপত্তি লাভ ঘটে।
আশির দশকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার একটি ঘটনা বিশ্ববাসীকে তুমুলভাবে নাড়িয়ে দেয়। যার ওপর নির্ভর করেই মূলত ১৯৯২ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র লরেঞ্চ ওয়েল নির্মিত হয়। বিগত দশক ধরে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালালেও এ জাতীয় মরণব্যাধির কোন কার্যকর ও সহজলভ্য সমাধান বের করতে সক্ষম হয়নি। চিকিৎসায় এ যাবৎ বোনম্যারু ট্রান্সপস্নান্ট নামক পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো, যা খুবই ব্যয়বহুল ও জটিল এবং মৃত্যুহার শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে বোনম্যারু ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের গরমিল দেখা দেয়। এ জাতীয় সমস্যার বিকল্প উপায় হিসেবেই জিন থেরাপির কথা ভেবেছিলেন প্যাট্রিক হিউবার্গ ও তার সহযোগীরা এবং সে ভাবনা থেকেই উন্মোচিত হল চিকিৎসা বিজ্ঞানের এ নবদিগন্ত। তারা প্রক্রিয়াজাত নমুনা হিসেবে বেছে নেন একটি এইচআইভি ভাইরাস এবং তাতে প্রয়োজনীয় জেনেটিক পরিবর্তন এনে একে অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগান। তারা আক্রান্ত স্থানের রক্তকণিকাগুলো সরিয়ে তার স্থলে পরিবর্তিত এইচ আইভি ভাইরাস অনুপ্রবেশ করান এবং তা থেকে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ গঠনে প্রয়োজনীয় এনজাইম ও অন্যান্য উপাদান সরবরাহ করতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে আমেরিকান একদল গবেষকও জিন থেরাপি প্রয়োগ করে জন্মান্ধ এক শিশুর অন্ধত্ব ঘোচাতে বিশেষ সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমান সময়ের এ যুগান্তকারী আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুললেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন এ কৌশলটির আরও ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। মানবকল্যাণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক মাইলফলক হিসেবে এ জিন থেরাপি কাজ করবে বলে তারা একমত হয়েছেন।
সূত্র: ইন্টারনেট
|